চট্টগ্রামের গ্রাহকরা রমজানের প্রথম দিনে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের তীব্র দামবৃদ্ধির মুখোমুখি হয়েছেন। ইফতার ও সেহরির প্রস্তুতিতে সাধারণ মানুষর বাজেট এখন আরও সংকুচিত হয়েছে।
লেবুর দাম চরম বৃদ্ধি
একটি বাজার সমীক্ষা অনুযায়ী, মাঝারি আকারের লেবু যা দুই সপ্তাহ আগে ২০–৪০ টাকায় বিক্রি হত, এখন ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত বছর রমজানের আগে লেবুর দাম ছিল ৪০–৫০ টাকা, কিন্তু সীমিত সরবরাহ ও চাহিদার বৃদ্ধি এই মৌসুমে দামকে ১২০ টাকায় পৌঁছে দিয়েছে।

সবজির দামেও বড় পরিবর্তন
বেগুন ও শশার দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বেগুন ৮০–১২০ টাকায় এবং শশা ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজরের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, আর সবুজ মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০–১৬০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারি মূল্যের বৃদ্ধি রিটেল দামের প্রধান কারণ।

মাংস ও মুরগির দাম বাড়ছে
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এখন আরও চাপের মধ্যে। ব্রয়লার মুরগি, যা দুই সপ্তাহ আগে ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হত, এখন ২০০–২২০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০–৩৫০ টাকায়, যা ৩০–৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষি ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, উচুঁ চিংড়ি এবং শীতকালীন পোল্ট্রি মৃত্যু এই মূল্যের বাড়ার কারণ।
মাছের দামও বাড়ছে
তিলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই ও কাতলা মাছের দাম প্রতি কেজিতে ২০–৫০ টাকার মধ্যে বেড়েছে।

কর্তৃপক্ষের তদারকি বৃদ্ধি
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়েজ উদ্দিন জানান, সিন্ডিকেটগুলো ফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। রমজানকে সামনে রেখে প্রশাসন রেইড ও আইনি পদক্ষেপ বাড়িয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া খাতুঙ্গঞ্জের পাইকারি হাব পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিনিয়র কর্মকর্তারা পেঁয়াজ, খেজুর, ডাল, চিনি, ছোলা ও অন্যান্য রমজান প্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি মূল্য পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, “কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধির যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সিন্ডিকেটের কোনো মনিপুলেশন সহ্য করা হবে না।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















