স্বাস্থ্যবিমা পোর্টেবিলিটি সুবিধা চালু হয় ২০১১ সালের শেষদিকে, যাতে একজন গ্রাহক চাইলে এক ইন্স্যুরার থেকে অন্য ইন্স্যুরারে হাসপাতালাইজেশন পলিসি স্থানান্তর করতে পারেন। লক্ষ্য ছিল উন্নত কভারেজ, প্রতিযোগিতামূলক প্রিমিয়াম ও ভালো পরিষেবার সুযোগ তৈরি করা। তবে এটি মোবাইল নম্বর বদলের মতো সরল প্রক্রিয়া নয়। সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া পদক্ষেপ নিলে কভারেজে ফাঁক, বাড়তি প্রিমিয়াম কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত শর্তের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
পোর্টিং করলে আগের পলিসির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা বহাল থাকে। নতুন ইন্স্যুরারকে সম ইনসিউরড, নো-ক্লেইম বোনাস এবং পূর্ব-বিদ্যমান রোগের অপেক্ষাকাল সম্পূর্ণ করার জন্য অর্জিত ক্রেডিট বহন করতে হয়। তবে প্রিমিয়াম নির্ধারণের ক্ষমতা নতুন ইন্স্যুরারের হাতে থাকে। তাই নতুন শর্ত, কভারেজ ও প্রিমিয়াম লিখিতভাবে নিশ্চিত না করে পুরোনো পলিসি ল্যাপস করানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অনিশ্চয়তা থাকলে বর্তমান ইন্স্যুরারের কাছে নবায়ন করাই নিরাপদ, পরে পরিকল্পিতভাবে পোর্টিং বিবেচনা করা যেতে পারে।

অনেকেই বেশি কভারেজ, কম সাব-লিমিট, উন্নত হাসপাতাল নেটওয়ার্ক বা দ্রুত ক্লেইম নিষ্পত্তির আশায় পোর্টিং করেন। তবে বর্তমান ইন্স্যুরারের পরিষেবা সন্তোষজনক হলে এবং অপেক্ষাকাল প্রায় শেষ হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যবিমায় স্থিতিশীলতা অনেক সময় বাড়তি সুবিধার চেয়েও মূল্যবান।
তরুণ বা মধ্যবয়সী এবং বড় ধরনের পূর্ব-বিদ্যমান রোগ নেই—এমন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পোর্টিং তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। আন্ডাররাইটিং ঝুঁকি কম থাকায় তাদের আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু অবসর-সন্নিকটে বা অবসরোত্তর বয়সে পোর্টিং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবেদন নাকচ, অতিরিক্ত প্রিমিয়াম বা নতুন এক্সক্লুশন আরোপের সম্ভাবনা থেকে যায়। এ অবস্থায় বিদ্যমান ইন্স্যুরারের আজীবন নবায়নের অধিকার ধরে রাখা অনেক সময় বেশি নিরাপদ বিকল্প।

এ ছাড়া সম ইনসিউরড বাড়ানো বা একই ইন্স্যুরারের কাছে টপ-আপ ও সুপার টপ-আপ পলিসি যোগ করা কার্যকর সমাধান হতে পারে। এতে সাধারণত নতুন করে মেডিক্যাল আন্ডাররাইটিংয়ের জটিলতা কম থাকে এবং কভারেজ বাড়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রিমিয়ামে। বিশেষ করে যাদের কর্মস্থল থেকে বেস কভার আছে, তাদের জন্য এই পন্থা সুবিধাজনক।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, পোর্টিং গ্রাহকের অধিকার হলেও আন্ডাররাইটিং ইন্স্যুরারের অধিকার। তাই আবেগ নয়, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















