গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আগে পেশাগত পরিচয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, সাংবাদিকরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারতেন, তাহলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হতো। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই পেশাগত পরিচয়ের আগে রাজনৈতিক পরিচয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যা সাংবাদিকতার জন্য ক্ষতিকর।
সোমবার ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, সংস্কার ও তথ্য যাচাই’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মশালার আয়োজন করে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম।
ভুল তথ্যের ঝুঁকি ও দায়িত্ববোধ
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, একটি ভুল বা অসতর্ক প্রতিবেদন একটি পরিবারকে ধ্বংস করতে পারে, এমনকি একটি দেশ বা সরকারকেও সংকটে ফেলতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ভুল তথ্যের বিস্তার এক ধরনের মহামারিতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা ও সততার সঙ্গে কাজ করা জরুরি।

অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বাড়তি সতর্কতা
তিনি বিশেষভাবে অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এই খাতে কাজ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেশি। একটি প্রতিবেদন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের রিপোর্টিংয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
গণমাধ্যমে বিভাজন নিয়ে হতাশা
গণমাধ্যমের ভেতরের বিভাজন নিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব দেশের জন্য বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই নিজেদের প্রথম পরিচয় হিসেবে সাংবাদিক না ভেবে রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যা পেশার নিরপেক্ষতা নষ্ট করে।
পেশার প্রতি অঙ্গীকার
নিজের পেশাগত অঙ্গীকার তুলে ধরে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাংবাদিকতা করে যেতে চান। তিনি নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবেই দেখতে চান এবং এ পরিচয় নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে চান।

ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ এটি কার্যকর করতে আগ্রহী হলেও বাস্তবায়নে নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ইউএনডিপি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















