বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অর্থনীতি হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছে—এমনটাই মনে করেন বিজ্ঞাপন জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্যার মার্টিন সোরেল। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র–ভারত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য কাঠামো প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
দিল্লিতে এক আলোচনায় ৮১ বছর বয়সী সোরেল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া পরিকল্পনা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। বিজ্ঞাপন তৈরি, কনটেন্ট ভিজ্যুয়ালাইজেশন ও কপিরাইটিংয়ের সময় ও খরচ দ্রুত কমছে। এর ফলে প্রচলিত ‘ঘণ্টাভিত্তিক’ রাজস্ব মডেল বদলে আউটপুট-ভিত্তিক ও বৃহৎ পরিসরে ব্যক্তিকরণনির্ভর মডেলে যেতে হবে সংস্থাগুলোকে।

এআই কি বিজ্ঞাপন শিল্পের জন্য হুমকি?
সোরেলের মতে, এআই একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত ক্রমেই বাড়বে, ফলে আগের মতো বিপুল জনবল প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে এআই সৃজনশীলতার মান বাড়াতে পারে। তাঁর ভাষায়, অনেক নিম্নমানের কাজ বাজারে আছে—এআই সেই গড় মান উন্নত করবে। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যন্ত্র যখন মানুষের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তখন তা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন সামনে আসবে।
নতুন অর্থনৈতিক সূচক ও বিজ্ঞাপন ব্যয়
তিনি বলেন, কর্পোরেট মুনাফা ও বিজ্ঞাপন ব্যয়ের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। প্রচলিত মিডিয়ায় ব্যয় কমছে, বিপরীতে ডিজিটাল ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তি জায়ান্টরা বিপুল বিনিয়োগ করছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ত্রৈমাসিক ফল প্রকাশের চাপ সিদ্ধান্তকে স্বল্পমেয়াদি করে তুলছে। ফলে মিড-ফানেল ও লোয়ার-ফানেল পারফরম্যান্স মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব বাড়ছে।

তরুণদের জন্য পরামর্শ
বিজ্ঞাপন বা মিডিয়া পরিকল্পনা খাতে আসতে ইচ্ছুক তরুণদের উদ্দেশে সোরেলের পরামর্শ, চাইনিজ ও স্প্যানিশ ভাষা শেখা এবং কোডিং জানা জরুরি। পাশাপাশি ডিজিটাল ও ডেটা-ভিত্তিক দক্ষতায় জোর দিতে হবে। তিনি মনে করেন, ইউরোপের তুলনায় ভারত বা দক্ষিণ আমেরিকার মতো উন্নয়নশীল বাজারে কাজের সুযোগ বেশি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ায় কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিত।
ভূরাজনীতি ও বাজার বাছাই
সোরেল বিশ্বকে তিনটি বড় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দেখছেন—যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক, রাশিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ইরান ইস্যু। এর ফলে বিশ্ব আরও খণ্ডিত ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার বাছাইয়ে আরও সতর্ক হতে হবে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে হবে।

তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে থাকতে পারে। তাই দক্ষতা ও প্রযুক্তি প্রয়োগই হবে মূল চাবিকাঠি। এআই কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং কর্মপ্রবাহ সহজ করা ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার বিষয়—যা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
ভারতের সম্ভাবনা
প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভারত সবচেয়ে দ্রুতগতির অর্থনীতি এবং শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মত সোরেলের। তাঁর বিশ্বাস, সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলো ভারতের অর্থনীতিকে আরও উদ্দীপিত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















