দক্ষিণ চীনের মহানগর শেনজেন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির উজ্জ্বল সাফল্য তুলে ধরে সাংহাই ও বেইজিংকে ছাড়িয়ে দেশের বৃহত্তম উৎপাদন ও রপ্তানি নগরীর মর্যাদা অর্জন করেছে। শহরটির মেয়র জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্টার্ট-আপ বিকাশের ক্ষেত্রেও শেনজেন এখন স্পষ্টভাবে এগিয়ে।
অর্থনৈতিক উত্থানের ধারাবাহিকতা
২০২০ সালে শেনজেনের অর্থনীতির আকার ছিল ২.৮৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ৫৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এই পাঁচ বছরে গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৫ শতাংশ। শুধু ২০২৫ সালেই শহরটির মোট দেশজ উৎপাদন একই হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে একই সময়ে বেইজিং ও সাংহাইয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৪ শতাংশ।

শিল্প ও বাণিজ্যে শীর্ষে উত্থান
গত বছর শিল্প উৎপাদন এবং আমদানি-রপ্তানির মোট মূল্যের দিক থেকেও শেনজেন সাংহাই ও বেইজিংকে ছাড়িয়ে গেছে। ৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় গণকংগ্রেসে উপস্থাপিত বার্ষিক কর্মপ্রতিবেদনে মেয়র ছিন ওয়েইঝং এ তথ্য জানান।
এই প্রতিবেদন শুধু গত বছরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অর্জনের মূল্যায়ন নয়, বরং ২০২৬ সালের লক্ষ্য ও কৌশলের একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্মেলন ঘিরে বৈশ্বিক মঞ্চে শেনজেন
নভেম্বরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোটের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে শেনজেন। এই আয়োজন শহরটিকে বৈশ্বিক পরিসরে তার অর্থনৈতিক মডেল ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরার সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে চীন এই সম্মেলনকে বিশ্বায়নের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষণা ও প্রযুক্তিতে অগ্রগামী অবস্থান
মেয়রের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনের মূল ভূখণ্ডের শহরগুলোর মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন বিনিয়োগের ঘনত্বে শেনজেন শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জাতীয় সুপারকম্পিউটিং কেন্দ্রের শাখার কম্পিউটিং সক্ষমতাও বিশ্বমানের মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিল্প উৎপাদন, বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চ—সব ক্ষেত্রেই শেনজেন এখন চীনের অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















