০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন ২০ জনের মৃত্যু: সড়ক দুর্ঘটনা রেকর্ডে উদ্বেগজনক চিত্র ৮টার দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে ফারাক হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধের দাবি, হাইকোর্টে রিট টেলিকম সেবা বিঘ্নের আশঙ্কা, জ্বালানিতে অগ্রাধিকার চায় অপারেটররা ব্যাংক ঋণনির্ভর অর্থনীতিতে সরকার, আগামী তিন মাসেই ব্যাংক থেকে নেবে ৩ লাখ কোটি টাকা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে নতুন জীবন: প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে রিসাইক্লিংয়ের চিত্র ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যু ১, সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হলো জাপানের উন্নত যুদ্ধবিমান প্রকল্পে কানাডার আগ্রহ, চীনের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে নতুন কৌশল এলপিজির দামে বড় ধাক্কা, এপ্রিলেই ১২ কেজি সিলিন্ডারে বেড়েছে ৩৮৭ টাকা চীনের বাণিজ্যিক রকেট কি স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর চেয়েও সস্তা?

খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীরবতা কেন? ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল সে দেশের বিরোধীদল

ভারতের প্রধান বিরোধী দল দেশটির সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নয়াদিল্লির নীরবতার প্রসঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের দাবি, এমন একটি বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া দেশের বৈশ্বিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

Ali Khamenei - Wikipedia

রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন: মোদি কি হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করেন?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে সমর্থন করেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার উপায় হিসেবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে তিনি সমর্থন করেন কি না, তা স্পষ্ট করা জরুরি।

রাহুল গান্ধীর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভারতের নীরবতা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি নেতাকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড ঘটলে যদি আমাদের দেশ সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তবে তা পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়।

Rahul Gandhi | Our Opinion: Rahul Gandhi and the mimicry controversy in  Parliament - Anandabazar

সরকারের নীরবতা নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা

এই ইস্যুতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা সোনিয়া গান্ধীও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়, বরং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল।

তার মতে, এই বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না দেওয়া ঘটনাটিকে পরোক্ষভাবে সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করারও আহ্বান জানান।

সোনিয়া গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, ভারত খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা করেছে। তবে ওই প্রতিক্রিয়ায় ঘটনার আগের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি।

সোনিয়া গান্ধী - উইকিপিডিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ভারতের অবস্থান

খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মাসে ইসরায়েল সফরের জন্যও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমালোচনার মুখে পড়েন। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ চলাকালেই তার ওই সফর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক “দুর্ভাগ্যজনক”।

ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে আলোচনা নয়: আরাঘচি

ভারত ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় এবং তা কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন ২০ জনের মৃত্যু: সড়ক দুর্ঘটনা রেকর্ডে উদ্বেগজনক চিত্র

খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীরবতা কেন? ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল সে দেশের বিরোধীদল

১০:৪২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ভারতের প্রধান বিরোধী দল দেশটির সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নয়াদিল্লির নীরবতার প্রসঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের দাবি, এমন একটি বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া দেশের বৈশ্বিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

Ali Khamenei - Wikipedia

রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন: মোদি কি হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করেন?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে সমর্থন করেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার উপায় হিসেবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে তিনি সমর্থন করেন কি না, তা স্পষ্ট করা জরুরি।

রাহুল গান্ধীর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভারতের নীরবতা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি নেতাকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড ঘটলে যদি আমাদের দেশ সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তবে তা পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়।

Rahul Gandhi | Our Opinion: Rahul Gandhi and the mimicry controversy in  Parliament - Anandabazar

সরকারের নীরবতা নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা

এই ইস্যুতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা সোনিয়া গান্ধীও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়, বরং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল।

তার মতে, এই বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না দেওয়া ঘটনাটিকে পরোক্ষভাবে সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করারও আহ্বান জানান।

সোনিয়া গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, ভারত খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা করেছে। তবে ওই প্রতিক্রিয়ায় ঘটনার আগের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি।

সোনিয়া গান্ধী - উইকিপিডিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ভারতের অবস্থান

খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মাসে ইসরায়েল সফরের জন্যও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমালোচনার মুখে পড়েন। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ চলাকালেই তার ওই সফর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক “দুর্ভাগ্যজনক”।

ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে আলোচনা নয়: আরাঘচি

ভারত ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় এবং তা কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়।