১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীরবতা কেন? ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল সে দেশের বিরোধীদল

ভারতের প্রধান বিরোধী দল দেশটির সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নয়াদিল্লির নীরবতার প্রসঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের দাবি, এমন একটি বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া দেশের বৈশ্বিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

Ali Khamenei - Wikipedia

রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন: মোদি কি হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করেন?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে সমর্থন করেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার উপায় হিসেবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে তিনি সমর্থন করেন কি না, তা স্পষ্ট করা জরুরি।

রাহুল গান্ধীর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভারতের নীরবতা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি নেতাকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড ঘটলে যদি আমাদের দেশ সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তবে তা পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়।

Rahul Gandhi | Our Opinion: Rahul Gandhi and the mimicry controversy in  Parliament - Anandabazar

সরকারের নীরবতা নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা

এই ইস্যুতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা সোনিয়া গান্ধীও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়, বরং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল।

তার মতে, এই বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না দেওয়া ঘটনাটিকে পরোক্ষভাবে সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করারও আহ্বান জানান।

সোনিয়া গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, ভারত খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা করেছে। তবে ওই প্রতিক্রিয়ায় ঘটনার আগের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি।

সোনিয়া গান্ধী - উইকিপিডিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ভারতের অবস্থান

খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মাসে ইসরায়েল সফরের জন্যও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমালোচনার মুখে পড়েন। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ চলাকালেই তার ওই সফর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক “দুর্ভাগ্যজনক”।

ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে আলোচনা নয়: আরাঘচি

ভারত ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় এবং তা কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীরবতা কেন? ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল সে দেশের বিরোধীদল

১০:৪২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ভারতের প্রধান বিরোধী দল দেশটির সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নয়াদিল্লির নীরবতার প্রসঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের দাবি, এমন একটি বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া দেশের বৈশ্বিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

Ali Khamenei - Wikipedia

রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন: মোদি কি হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করেন?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে সমর্থন করেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করার উপায় হিসেবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার ঘটনাকে তিনি সমর্থন করেন কি না, তা স্পষ্ট করা জরুরি।

রাহুল গান্ধীর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভারতের নীরবতা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি নেতাকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড ঘটলে যদি আমাদের দেশ সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তবে তা পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়।

Rahul Gandhi | Our Opinion: Rahul Gandhi and the mimicry controversy in  Parliament - Anandabazar

সরকারের নীরবতা নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা

এই ইস্যুতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা সোনিয়া গান্ধীও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়, বরং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল।

তার মতে, এই বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না দেওয়া ঘটনাটিকে পরোক্ষভাবে সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করারও আহ্বান জানান।

সোনিয়া গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, ভারত খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা করেছে। তবে ওই প্রতিক্রিয়ায় ঘটনার আগের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি।

সোনিয়া গান্ধী - উইকিপিডিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ভারতের অবস্থান

খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মাসে ইসরায়েল সফরের জন্যও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমালোচনার মুখে পড়েন। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ চলাকালেই তার ওই সফর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক “দুর্ভাগ্যজনক”।

ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে আলোচনা নয়: আরাঘচি

ভারত ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় এবং তা কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়।