ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড (ডিপিবি) রাশিয়া থেকে আরও পাঁচটি এস–৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের হাতে তিনটি এস–৪০০ ব্যবস্থা রয়েছে এবং আরও দুটি চলতি বছরের মধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা।
প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের অনুমোদন
প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি যাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদের কাছে।

এই পরিষদ প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন দিলে পরবর্তী ধাপে একটি ব্যয় নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হবে, যা নতুন ব্যবস্থাগুলোর দাম নির্ধারণ করবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
অপারেশন সিন্দুরে এস–৪০০ এর ভূমিকা
ভারতের তিনটি এস–৪০০ ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই সক্রিয় রয়েছে। আরও দুটি শিগগিরই যুক্ত হবে। ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত অপারেশন সিন্দুরের সময় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
সে সময় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান, আকাশে সতর্কীকরণ বিমান এবং ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা বিমানের উড্ডয়ন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের ১০ মে ভোরে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর চকলালা বিমানঘাঁটির উত্তর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তান শান্তির আবেদন জানায়।
![]()
প্যান্টসির এস–১ কেনার পরিকল্পনা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন ভারতীয় বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর একটি প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে রাশিয়ার ১৩টি প্যান্টসির এস–১ স্বচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ব্যবস্থাগুলো মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, স্বল্প পাল্লার রকেট এবং কামিকাজে ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০টি প্যান্টসির ব্যবস্থা ভারতীয় বিমানবাহিনী কিনবে, যা ভবিষ্যতে দেশের মোট ১০টি এস–৪০০ ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেবে।
অন্যদিকে সেনাবাহিনী তিনটি প্যান্টসির ব্যবস্থা সংগ্রহ করবে, যা সীমান্ত এলাকায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার, সশস্ত্র ড্রোন, রকেট ও স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে।

ক্রয় ও উৎপাদনের কৌশল
এস–৪০০ ব্যবস্থাগুলোর ক্রয় পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চললেও জানা গেছে, পাঁচটি ব্যবস্থাই সরাসরি কেনা হবে। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল করার দায়িত্ব দেওয়া হবে ভারতের বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
প্যান্টসির ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নেওয়া হবে। প্রথম ধাপে দ্রুত ক্রয় পদ্ধতিতে কিছু ইউনিট সরাসরি কেনা হবে। পরে জরুরি প্রয়োজনের কারণে এর কিছু অংশ ভারতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশেই তৈরি করা হবে।
এই প্যান্টসির ব্যবস্থা বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনাবাহিনী ব্যবহার করছে এবং আকাশে ইরানের কামিকাজে ড্রোন ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা চাহিদা
ভারতের বিশাল ভৌগোলিক আকার, পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের উপস্থিতি এবং প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা দেশটিকে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধ্য করেছে।
এ ধরনের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমান মোকাবিলায় নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্বজুড়ে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনা দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তার এই প্রয়োজনকে আরও তীব্র করেছে।
এর পাশাপাশি তুরস্ক স্বল্পমূল্যের কামিকাজে ড্রোন ও লয়টারিং গোলাবারুদ পাকিস্তান, ইরান, আজারবাইজান, মালদ্বীপ এবং বাংলাদেশে সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে। এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুর ওপর একযোগে ব্যাপক হামলা চালানোর কৌশল ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















