ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান এবং তাদের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সীমিত আকারের হামলা বা সাইবার আক্রমণের পথ বেছে নিতে পারে। তবে বড় ধরনের সরাসরি সামরিক হামলার সম্ভাবনা আপাতত কম বলে মনে করা হচ্ছে।
খামেনি নিহতের পর প্রতিশোধের আশঙ্কা
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এবং তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বড় ধরনের সশস্ত্র হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট আকারের আক্রমণ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সাইবার হামলার আশঙ্কা বেশি
স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাইবার আক্রমণকে। ইরানপন্থী হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ধরনের হামলার মধ্যে ওয়েবসাইট বিকৃত করা, সেবা বন্ধ করে দেওয়া বা নেটওয়ার্ক অচল করে দেওয়ার মতো কার্যক্রম থাকতে পারে। গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব হামলা বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও প্রতীকী প্রতিশোধ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত
![]()
খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনাও সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে। ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ বাড়ার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ইরান সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়ী করেও প্রচার চালানো হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সতর্ক নজরদারি
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতে গোয়েন্দা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, যে কোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণের সম্ভাবনা দ্রুত শনাক্ত করে তা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















