মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে লেবানন সীমান্তে হাজার হাজার সেনা, সাঁজোয়া যান ও রকেট ইউনিট মোতায়েন করেছে সিরিয়া। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বলে দাবি করেছে দামেস্ক, যদিও এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে।
সীমান্তে বড় আকারের সামরিক মোতায়েন
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইরাক সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। এর লক্ষ্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সামরিক সূত্রগুলো জানায়, মোতায়েন করা ইউনিটের মধ্যে রয়েছে পদাতিক বাহিনী, সাঁজোয়া যান এবং স্বল্প পাল্লার গ্রাদ ও কাটিউশা রকেট লঞ্চার। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে সীমান্তরক্ষী ও গোয়েন্দা ইউনিটও সক্রিয় রাখা হয়েছে।
সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই মোতায়েন শুরু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় কার্যক্রম দ্রুততর করা হয়েছে।
পাচার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা
সিরিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ মূলত অস্ত্র ও মাদক পাচার ঠেকাতে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে কোনো মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠী যাতে সিরিয়ায় ঢুকতে না পারে, সে লক্ষ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পশ্চিম হোমস অঞ্চল এবং তারতুসের দক্ষিণে কয়েকটি সামরিক ডিভিশনের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পনা নেই
দামেস্কের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। তবে দেশের নিরাপত্তা বা মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে তার মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী।
সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা আরও বলেন, লেবাননের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। অতীতে দুই দেশের সম্পর্ক নানা উত্তেজনায় ভরা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনার প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক সংঘাত বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইসরায়েলের দিকে হামলা শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। এর জবাবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনেক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ার দিকে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।
প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বলছে লেবানন
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়া তাদের জানিয়েছে যে সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় রকেট ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। যদি কোনো গোষ্ঠী সিরিয়ার বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তা মোকাবিলার জন্যই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তবে ইউরোপ ও লেবাননের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, এই মোতায়েন ভবিষ্যতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















