ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে কুয়েতে হামলায় নিহত ছয় মার্কিন সেনার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। ড্রোন হামলায় কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা এলাকায় একটি সামরিক কমান্ড কেন্দ্র ধ্বংস হলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে এবং নিহতদের পরিবারেও চলছে শোকের মাতম।
ড্রোন হামলায় কমান্ড সেন্টার ধ্বংস
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার একটি মানববিহীন আকাশযান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা এলাকার একটি সামরিক কমান্ড সেন্টারে আঘাত হানে। প্রথমে তিন সেনা নিহত হওয়ার খবর জানানো হলেও পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার এবং একজন গুরুতর আহত সেনার মৃত্যুর পর মোট নিহতের সংখ্যা ছয়ে পৌঁছায়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট এম মারজান, মেজর জেফ্রি আর ও’ব্রায়েন, ক্যাপ্টেন কোডি খোরক, সার্জেন্ট নোয়া টিয়েটজেন্স, সার্জেন্ট নিকোল আমোর এবং সার্জেন্ট ডেকলান কোয়াডি। ডেকলান কোয়াডিকে মৃত্যুর পর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রিজার্ভ বাহিনীর সদস্য ছিলেন নিহতরা
প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, নিহত ছয়জনই মার্কিন সেনাবাহিনীর রিজার্ভ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এই বাহিনী সাধারণত বড় সামরিক অভিযানে লজিস্টিক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রথমে চার সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়। পরে আরও দুইজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়, যা এই ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে নিয়ে আসে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেনারা স্বেচ্ছায় দেশের সুরক্ষায় দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং তাদের আত্মত্যাগ কখনও ভুলে যাওয়া হবে না।
![]()
নিহতদের জীবনের গল্প
নিহত ক্যাপ্টেন কোডি খোরক এর আগে সৌদি আরব, গুয়ানতানামো বে এবং পোল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
মিনেসোটার বাসিন্দা সার্জেন্ট নিকোল আমোর এর আগে কুয়েত ও ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার স্বামী জানিয়েছেন, তিনি প্রায় বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। তাদের এক ছেলে উচ্চবিদ্যালয়ে এবং এক মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।
নেব্রাস্কার বাসিন্দা সার্জেন্ট নোয়া টিয়েটজেন্স দুইবার কুয়েতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী ও বাবা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তায়কোয়ান্দোসহ বিভিন্ন মার্শাল আর্টে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
আইওয়ার বাসিন্দা ডেকলান কোয়াডি মাত্র তিন বছর আগে রিজার্ভ বাহিনীতে যোগ দেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তার পরিবার জানিয়েছে, সামনে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছিল।
শোক জানাতে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত সেনাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সময় পরিবারের সঙ্গে শোক প্রকাশ করতে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে
মার্কিন সেনাবাহিনী বহু বছর ধরে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রেখে আসছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় তেরো হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এর আগে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান ও কাতারেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে এবং সংঘাতের পরবর্তী ধাপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















