০২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পকে থামানোর উদ্যোগ ব্যর্থ, নতুন করে বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিদলীয় উদ্যোগ হিসেবে উত্থাপিত এই প্রস্তাব ভোটাভুটিতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকার পথ আরও পরিষ্কার হয়েছে।

৫৩ বনাম ৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়, যেখানে মূলত দলীয় লাইনে বিভক্ত হয়ে ভোট দেন সিনেট সদস্যরা। প্রস্তাবটি পাস হলে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেত।

Senate GOP gives Trump free hand in Iran as war powers vote fails

সিনেটে তীব্র বিভাজন

প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটিতে অধিকাংশ সদস্য নিজ নিজ দলের অবস্থান অনুসরণ করেন। তবে ব্যতিক্রমও ছিল। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, অন্যদিকে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন।

মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, এই মুহূর্তে এমন আইন পাস হলে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের কাছে ভুল বার্তা দিত। তাঁর মতে, এই সময়ে সেনাদের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন দেখানো এবং প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেসের যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার ভোটের আগে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার মানুষ ক্লান্ত। তাঁর ভাষায়, দেশকে আরেকটি বড় যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।

US Senate fails to advance war powers measure to rein in Trump’s Iran war

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ বাড়তে শুরু করে শনিবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়কাল অনেক কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন। তবে যুদ্ধ শুরু হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানানো বাধ্যতামূলক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই নিয়ম মেনেই কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। হামলার আগে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের জানানো হয় এবং সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে একটি চিঠিও পাঠান।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে বারবার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কী কথা হলো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর | প্রথম  আলো

যুদ্ধক্ষমতা আইন নিয়ে পুরোনো বিতর্ক

১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর মার্কিন কংগ্রেস যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত একটি আইন পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসকে সামরিক অভিযান অনুমোদন দিতে হয়। তবে বাস্তবে অনেক প্রশাসনই বিভিন্ন আইনি ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে গেছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর পাস হওয়া সামরিক অনুমোদন আইন এখনো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনার অন্যতম আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে সিনেটে প্রস্তাব ব্যর্থ হলেও বিষয়টি এখন প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের জন্য উঠছে। সেখানে এই উদ্যোগ পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পকে থামানোর উদ্যোগ ব্যর্থ, নতুন করে বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা

০২:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিদলীয় উদ্যোগ হিসেবে উত্থাপিত এই প্রস্তাব ভোটাভুটিতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকার পথ আরও পরিষ্কার হয়েছে।

৫৩ বনাম ৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়, যেখানে মূলত দলীয় লাইনে বিভক্ত হয়ে ভোট দেন সিনেট সদস্যরা। প্রস্তাবটি পাস হলে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেত।

Senate GOP gives Trump free hand in Iran as war powers vote fails

সিনেটে তীব্র বিভাজন

প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটিতে অধিকাংশ সদস্য নিজ নিজ দলের অবস্থান অনুসরণ করেন। তবে ব্যতিক্রমও ছিল। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, অন্যদিকে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন।

মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, এই মুহূর্তে এমন আইন পাস হলে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের কাছে ভুল বার্তা দিত। তাঁর মতে, এই সময়ে সেনাদের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন দেখানো এবং প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেসের যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার ভোটের আগে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার মানুষ ক্লান্ত। তাঁর ভাষায়, দেশকে আরেকটি বড় যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।

US Senate fails to advance war powers measure to rein in Trump’s Iran war

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ বাড়তে শুরু করে শনিবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়কাল অনেক কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন। তবে যুদ্ধ শুরু হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানানো বাধ্যতামূলক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই নিয়ম মেনেই কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। হামলার আগে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের জানানো হয় এবং সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে একটি চিঠিও পাঠান।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে বারবার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কী কথা হলো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর | প্রথম  আলো

যুদ্ধক্ষমতা আইন নিয়ে পুরোনো বিতর্ক

১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর মার্কিন কংগ্রেস যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত একটি আইন পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসকে সামরিক অভিযান অনুমোদন দিতে হয়। তবে বাস্তবে অনেক প্রশাসনই বিভিন্ন আইনি ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে গেছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর পাস হওয়া সামরিক অনুমোদন আইন এখনো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনার অন্যতম আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে সিনেটে প্রস্তাব ব্যর্থ হলেও বিষয়টি এখন প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের জন্য উঠছে। সেখানে এই উদ্যোগ পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।