মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এখন দেশের যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। শীর্ষ কমান্ডারদের মৃত্যু সত্ত্বেও এই বাহিনী আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে এবং কঠোর সামরিক কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে।
যুদ্ধের সময় সিদ্ধান্তে গার্ড বাহিনীর প্রভাব
ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক হামলার আগেই বিপ্লবী গার্ড তাদের নেতৃত্ব কাঠামো নিচের স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলেও দ্রুত নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে এবং যুদ্ধ পরিচালনা অব্যাহত থাকছে।
এই ব্যবস্থার ফলে মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

নেতৃত্ব হারিয়েও কাঠামো অটুট
সাম্প্রতিক হামলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বাহিনীর প্রধানসহ গোয়েন্দা, মহাকাশ এবং অর্থনৈতিক ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
তবু বাহিনীর কাঠামো ভেঙে পড়েনি। প্রতিটি কমান্ডারের জন্য আগেই একাধিক উত্তরসূরি নির্ধারণ করা ছিল। ফলে একজন নিহত হলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য কেউ দায়িত্ব গ্রহণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল প্রায় দুই দশক আগে তৈরি করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আক্রমণে দেশটির সেনাবাহিনী দ্রুত ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই বিকেন্দ্রীকরণ নীতি গড়ে তোলা হয়।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী শুধু বাহ্যিক যুদ্ধ পরিচালনাই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষাতেও বড় ভূমিকা রাখছে। কঠোর নিরাপত্তা নীতি ও শক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বড় ধরনের গণবিক্ষোভের সম্ভাবনাও কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এতে করে বিদেশি শক্তির আশা ছিল যে হামলার ফলে দেশে বিদ্রোহ সৃষ্টি হতে পারে, সেই সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্বেও গার্ডের প্রভাব
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রশ্নে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে এই বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং বাহিনীর ভেতরেও তাদের শক্ত সমর্থন আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান সংঘাত হঠাৎ থেমে যায় এবং শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাব
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গঠিত এই বাহিনী শুরুতে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা শুধু সামরিক নয়, গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
দেশের বড় বড় অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পেও তাদের প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে একটি শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত করেছে, যা আজ ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















