ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সময় দেওয়া সব ঠিকাদারি কাজ ও বিলের যথার্থতা যাচাই করতে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন নতুন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তার দাবি, গত দেড় বছরে দেওয়া বিভিন্ন টেন্ডার ও বিলের মধ্যে অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
শনিবার এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মিল্টন বলেন, সাবেক প্রশাসকের সময় দেওয়া বিভিন্ন কাজ ও বিলের নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, কিছু টেন্ডার ‘অনৈতিকভাবে’ দেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যা গত দেড় বছরে করপোরেশনের দেওয়া কাজ ও বিলের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই করবে।

২৫৭০ কোটি টাকার বিল অনুমোদনের অভিযোগ
মিল্টনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রশাসক এজাজ দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ২৫৭০ কোটি টাকার বিলের নথি অনুমোদন করা হয়েছে। এসব বিলের মধ্যে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
এদিকে এজাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)ও অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দুদকের তদন্ত ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা
গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অন্তর্বর্তী সরকার এজাজকে প্রশাসকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
এর অংশ হিসেবে তাকে দুদকে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। পরে আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মিরপুর-গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, বিভিন্ন মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দসহ নানা বিষয়ে অনিয়ম।
উত্তর সিটির তহবিল নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
দায়িত্ব নেওয়ার পর মিল্টন দাবি করেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় করপোরেশনের সাধারণ তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা ছিল, যা উত্তর সিটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
তার মতে, আগের প্রশাসনের সময় অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বিপুল ব্যয় হওয়ায় আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে সাবেক প্রশাসক এজাজ ফেইসবুক পোস্টে দাবি করেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় তিনি করপোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১২৬০ কোটি টাকার বেশি জমা রেখে গেছেন।
বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ
মিল্টনের অভিযোগ, সাবেক প্রশাসক বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল ও ফিক্সড ডিপোজিটের অর্থ যোগ করে মোট ১২৬০ কোটি টাকার হিসাব দেখিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার দিন এজাজ দ্রুততার সঙ্গে ৩৬টি বিল অনুমোদন করে যান, যার মাধ্যমে প্রায় ৪২ কোটি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা তৈরি হয়েছে। এসব নথি বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















