০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে বিভ্রান্তি, যুদ্ধের মধ্যেই কূটনৈতিক পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন তেলের দাম ও ডলারের চাপ: এশিয়ার অর্থনীতিতে দ্বিমুখী সংকটের ঝড় হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ শেহবাজ-ইরান ফোনালাপ: যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শেহবাজ-ইরান ফোনালাপ: যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ধ্বংসাবশেষে প্রাণহানি, উত্তেজনা নতুন মাত্রায় সিলেটে পুকুরে ডুবে শিশুমৃত্যু, বিষণ্নতায় ডুবল বিশ্বনাথ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, তবে কিছু মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ঘোষণা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র

অবৈধ ইউটিউব স্ট্রিমে উধাও হাজার কোটি ইয়েন, কনটেন্ট শিল্পে বড় হুমকি

জাপানে অবৈধভাবে টেলিভিশন অনুষ্ঠান অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে বিজ্ঞাপন আয়ে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র এক মাসেই প্রায় ৩২০ কোটি ইয়েন সমপরিমাণ আয়ের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির কনটেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অবৈধ আপলোডে বিজ্ঞাপনের টাকা হাতছাড়া

জাপানের বাণিজ্যিক সম্প্রচার সংস্থাগুলোর সংগঠনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে অবৈধভাবে টিভি অনুষ্ঠান প্রচারের ফলে বিপুল বিজ্ঞাপন আয় অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। গবেষণাটি গত বছরের নভেম্বর থেকে এক মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়, যেখানে ইউটিউবসহ চারটি প্ল্যাটফর্মে তিনশ করে অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বিশেষ করে ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি ভিউ হয়েছে। এখানে ১৫ হাজারের বেশি ভিডিও আপলোড হয়ে প্রায় ১১১০ কোটি ভিউ অর্জন করেছে। প্রতি ভিউতে গড়ে এক ইয়েন বিজ্ঞাপন মূল্য ধরা হলে বিপুল এই অর্থ অবৈধভাবে আপলোডকারীদের এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালকদের হাতে গেছে।

YouTubeの番組で違法動画1万5000本 32億円の広告費流出か 民放連 関係団体などに対策呼びかけ

অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও একই চিত্র

শুধু ইউটিউব নয়, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। টিকটকে প্রায় ২৫ হাজার ভিডিও আপলোড হয়ে প্রায় ৩০ কোটি ভিউ হয়েছে। ফেসবুক ও এক্সেও হাজার হাজার পোস্টে শত কোটি ভিউ ছাড়িয়েছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, সমস্যাটি সীমিত নয় বরং আরও বিস্তৃত। গবেষকরা বলছেন, এটি কেবল আংশিক চিত্র, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

কনটেন্ট নির্মাতাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে

সংগঠনটির মতে, অবৈধভাবে কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে নির্মাতারা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। ফলে নতুন সৃষ্টিশীল প্রতিভা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পুরো শিল্প ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে যায়।

এছাড়া ভুক্তভোগী সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বিপুল সময় ও অর্থ ব্যয় করে এসব কনটেন্ট সরাতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

YouTube Add to Que Feature: YouTube to introduce 'Add to Queue' as premium  feature for Android and iOS phones - The Economic Times

বিজ্ঞাপনদাতারাও জড়িয়ে পড়ছেন অনিচ্ছায়

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৮০টি প্রতিষ্ঠান এসব অবৈধ ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যার মধ্যে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার কারণে এসব কনটেন্টে বিজ্ঞাপন যুক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

এর আগে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অন্তত ৫৪টি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ কোটি ইয়েন বিজ্ঞাপন আয় হারিয়েছে সম্প্রচার খাত।

কঠোর নীতিমালার দাবি

এ অবস্থায় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। তাদের মতে, অবৈধ কনটেন্ট বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে কনটেন্ট উৎপাদনই হুমকির মুখে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে বিভ্রান্তি, যুদ্ধের মধ্যেই কূটনৈতিক পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন

অবৈধ ইউটিউব স্ট্রিমে উধাও হাজার কোটি ইয়েন, কনটেন্ট শিল্পে বড় হুমকি

০১:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

জাপানে অবৈধভাবে টেলিভিশন অনুষ্ঠান অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে বিজ্ঞাপন আয়ে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র এক মাসেই প্রায় ৩২০ কোটি ইয়েন সমপরিমাণ আয়ের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির কনটেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অবৈধ আপলোডে বিজ্ঞাপনের টাকা হাতছাড়া

জাপানের বাণিজ্যিক সম্প্রচার সংস্থাগুলোর সংগঠনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে অবৈধভাবে টিভি অনুষ্ঠান প্রচারের ফলে বিপুল বিজ্ঞাপন আয় অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। গবেষণাটি গত বছরের নভেম্বর থেকে এক মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়, যেখানে ইউটিউবসহ চারটি প্ল্যাটফর্মে তিনশ করে অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বিশেষ করে ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি ভিউ হয়েছে। এখানে ১৫ হাজারের বেশি ভিডিও আপলোড হয়ে প্রায় ১১১০ কোটি ভিউ অর্জন করেছে। প্রতি ভিউতে গড়ে এক ইয়েন বিজ্ঞাপন মূল্য ধরা হলে বিপুল এই অর্থ অবৈধভাবে আপলোডকারীদের এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালকদের হাতে গেছে।

YouTubeの番組で違法動画1万5000本 32億円の広告費流出か 民放連 関係団体などに対策呼びかけ

অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও একই চিত্র

শুধু ইউটিউব নয়, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। টিকটকে প্রায় ২৫ হাজার ভিডিও আপলোড হয়ে প্রায় ৩০ কোটি ভিউ হয়েছে। ফেসবুক ও এক্সেও হাজার হাজার পোস্টে শত কোটি ভিউ ছাড়িয়েছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, সমস্যাটি সীমিত নয় বরং আরও বিস্তৃত। গবেষকরা বলছেন, এটি কেবল আংশিক চিত্র, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

কনটেন্ট নির্মাতাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে

সংগঠনটির মতে, অবৈধভাবে কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে নির্মাতারা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। ফলে নতুন সৃষ্টিশীল প্রতিভা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পুরো শিল্প ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে যায়।

এছাড়া ভুক্তভোগী সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বিপুল সময় ও অর্থ ব্যয় করে এসব কনটেন্ট সরাতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

YouTube Add to Que Feature: YouTube to introduce 'Add to Queue' as premium  feature for Android and iOS phones - The Economic Times

বিজ্ঞাপনদাতারাও জড়িয়ে পড়ছেন অনিচ্ছায়

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৮০টি প্রতিষ্ঠান এসব অবৈধ ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যার মধ্যে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার কারণে এসব কনটেন্টে বিজ্ঞাপন যুক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

এর আগে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অন্তত ৫৪টি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ কোটি ইয়েন বিজ্ঞাপন আয় হারিয়েছে সম্প্রচার খাত।

কঠোর নীতিমালার দাবি

এ অবস্থায় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। তাদের মতে, অবৈধ কনটেন্ট বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে কনটেন্ট উৎপাদনই হুমকির মুখে পড়বে।