বর্তমানের আচরণগত অর্থে ব্রাহ্মণকে দ্বিজ বলা হয় এ কারণে যে মাতৃগর্ভ থেকে একবার তার জন্ম হয় এবং উপনয়ন আচরণের মধ্য দিয়ে তার আরেকটি জন্ম ধরা হয়। কিন্তু ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাসের বাস্তবতায় ব্রাহ্মণকে “দ্বিজ” বলা হতো – মাতৃগর্ভ থেকে তিনি একবার সাধারণ মানুষ হিসেবে জন্ম নেন, আর ব্রহ্মত্ব অর্থাৎ জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে তিনি আরেকবার জন্ম নেন, অর্থাৎ ব্রহ্মত্ব বা জ্ঞানের অধিকারী হয়ে তিনি ব্রাহ্মণ হন। তার দ্বিতীয় জন্মটি কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রগত বিষয় ছিল না – এটা জ্ঞানগত বিষয়।
কিন্তু আধুনিক সভ্যতাকারে দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু মানুষ এক জীবনে নিজেকে জ্ঞানের দ্বারা বার বার পরিবর্তন করছেন। তাদের ভেতর কেউ আছেন, মনন পরিবর্তনকারী বা নির্ণায়ককারী (গেম চেঞ্জার), কেউ রাষ্ট্রচিন্তার, কেউ সমাজচিন্তার।
বাঙালি জাতি হিসেবে দুর্ভাগা হলেও এ দুর্ভাগা জাতিতে, রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষ বসু ও শেখ মুজিবুর রহমানের মত গেম চেঞ্জারের জন্ম হয়েছে।
রামমোহন ভাষা, সমাজ ও ধর্ম সংস্কার নিয়ে কাজ করেছেন। বিদ্যাসাগরের মূল ক্ষেত্র ছিল ভাষা। বাংলা ভাষার তিনিই প্রকৃত গেম চেঞ্জার। তিনি এই ভাষাকে কুয়া থেকে প্রবাহমান নদীতে পরিণত করেন। যে কারণে বাংলাভাষা সাগরমুখী হয়। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষাকে যেমন সাগরে পরিণত করেছেন, তেমনি বাঙালির মননকে পরিবর্তন করার জন্য রবীন্দ্রসাগর বলা চলে এমন একটি সাগর তার সারা জীবনের কাজ দিয়ে তৈরি করে রেখে গেছেন। এখানে দেখা যায় তার চিন্তার বাঁক বার বার পরিবর্তন হয়েছে, অর্থাৎ তিনি নিজ চিন্তার দ্বারা, জ্ঞানের দ্বারা বার বার জন্ম নিয়েছেন।
রামমোহন, বিদ্যাসাগর ও রবীন্দ্রনাথের পর বাকি তিনজন রাজনীতিক। চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষ বসু ও শেখ মুজিবুর রহমান তিনজন রাজনীতিতে গেম চেঞ্জার – এ কারণে যে আধুনিক ভারতীয় উপমহাদেশে যে ক’জন আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পথিক – এই তিন জন তাদের সামনের সারিতে।

আধুনিক রাষ্ট্র চিন্তার সব থেকে বড় দিক বা সারাংশ হলো, জাগতিক আইন ভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরি করা, এবং সে রাষ্ট্র মানুষের এই জগতের কল্যাণের জন্যে কাজ করবে বা সহায়ক হবে। রাষ্ট্র আইনদ্বারা জাগতিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
আইন ভিত্তিক এই রাষ্ট্র চিন্তা ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে শুরু। ভারতীয় সভ্যতায় কৌটিল্য রাষ্ট্র চিন্তাকে অনেক আধুনিকরণ করেন। ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় যা শুরু হয় তা ব্যক্তির ইচ্ছায় আইন। যেখানে আইন প্রণয়নে ব্যক্তি বড় সেই আইন দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র হয় না। অন্যদিকে কৌটিল্যের রাষ্ট্র চিন্তার আইন ও কৌশলগুলো শুধু রাষ্ট্র ও রাজাকে বা রাষ্ট্র প্রধানকে রক্ষার জন্যে। সেখানে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন অনুপস্থিত। আইন প্রণয়নে জনগণের কোনো অংশ গ্রহণ ছিল না।
ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করার যে সংগ্রাম শুরু হয় এর ভেতর দিয়েই ভারতবর্ষে একটি আধুনিক রাষ্ট্র চিন্তার জন্ম হয়। পশ্চিমা রাষ্ট্র চিন্তায় নানান পথ ও মতবাদের মধ্য দিয়ে যে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা – সে রাষ্ট্র জাগতিক, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন বা কল্যাণের জন্য – এই চিন্তা ভারতের অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে নানান ধর্মে জন্ম নেওয়া মানুষ ছিলেন। এবং ওই ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ওই সময়ে বাঙালি জাতির মধ্যে এই চিন্তার শীর্ষে ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও নেতাজী সুভাষ বসু। তাদের কাজ আধুনিক রাষ্ট্র সৃষ্টির অনেক অনুপ্রেরণা – বা নির্ণায়ক ভূমিকায় থাকবে। তবে ব্রিটিশের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের আগেই দুজনই পৃথিবী থেকে চলে যান। আর ভারতবর্ষও একক ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। এবং তা কোনো জাগতিক কারণে নয়, পারলৌকিক ধর্মের কারণে। সে ইতিহাস সবার জানা।
যে কারণে ধর্মীয় সংঘাতপূর্ণ দুইটি এলাকায় বা দুইটি রাষ্ট্রে শুধু নরমেধ যজ্ঞ নয়, মানুষে মানুষে বিভেদ, অবিশ্বাস, জোরপূর্বক মাইগ্রেশন, নারীর শ্লীলতাহানিসহ বর্বর যুগের যাবতীয় ঘটনা ঘটে। আর সবই ঘটে পারলৌকিক ধর্মের নামে।
এই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানও ধর্মের নামে সৃষ্ট ভারতের একটি অংশ যা পাকিস্তান নামে জন্ম নেয় – ওই পাকিস্তান আন্দোলনের একজন তরুণ কর্মী ছিলেন।

কিন্তু ১৯৪৭ সালে ধর্মের নামে ভারত ভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টির এক বছর পরে এসেই দেখা যায় – শেখ মুজিবুর রহমান তথাকথিত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ থেকে বের হয়ে এসে ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন প্রথম সারির নেতা হিসেবে আবিভূত হন। অর্থাৎ নিজের চিন্তা ও জ্ঞানের পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি আধুনিক রাষ্ট্র চিন্তার একটি ধাপে নিজেকে নিয়ে যান। কট্টরতার দিক থেকে ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ অনেকখানি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের মতো। কিন্তু পার্থক্য হলো, ভাষা জাগতিক, যাকে কখনই পারলৌকিক ধর্ম দিয়ে ভাগ করা যায় না। একটি ভূখণ্ডে বা যে ক’টি ভূখণ্ডের মানুষ ওই ভাষা শুধু ব্যবহার করে তারা ধর্মে ভিন্ন হলেও ভাষাকে আপন মনে করে।
এছাড়া ভারত ভাগের পর পরই ভারতবর্ষের বিভিন্ন এলাকায় এক শ্রেণীর তরুণের মনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এর অন্যতম কারণ ছিল, ভারত ভাগের কালে ধর্মের নামে একটি কুৎসিত দৃশ্য দেখা শুধু নয় – অনেকের নিজ নিজ জীবনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু ওই তরুণরা ভারতীয় উপমহাদেশের সব প্রান্তে তাদের মনোজাগতিক পরিবর্তনের অনুকূলে কাজ করতে পারেনি।
পূর্ববাংলার প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা শহর কেন্দ্রিক এর বহিঃপ্রকাশ যে শুধুমাত্র বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন নিয়ে ঘটেছিল তা নয়। এর সঙ্গে অনেক উপাদান যোগ হবে। যা ভবিষ্যতে বহু গবেষকের গবেষণার ভেতর দিয়ে বের হবে। তবে মোটাদাগে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদার পরিবেশ ও শিক্ষার কারণে একটি আধুনিক তরুণ শ্রেণীর জন্ম হয়েছিল। তাঁরা পাকিস্তান আন্দোলনের কর্মী হলেও তাঁদের মনোজগতের একটি বড় অংশ গঠিত হয়েছিল আধুনিক মনন চর্চা ও রাষ্ট্রচিন্তার জ্ঞান দ্বারা।
অন্যদিকে ভারত ভাগ হবার আগে বাঙালি রাজনীতিক বিশেষ করে কংগ্রেসের বেঙ্গলের নেতৃত্বের একটি অংশ ও মুসলিম লীগের নেতৃত্বের একটি অংশ মিলে – ভারত ও পাকিস্তানের বাইরে একটি বৃহত্তর বাংলাদেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে ভাষা ও সংস্কৃতি নির্ভর এই রাষ্ট্র চিন্তার সঙ্গে ওই সময়ে কলকাতা কেন্দ্রিক শেখ মুজিবুর রহমানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আধুনিক চিন্তার মুসলিম লীগের তরুণরাও জড়িত ছিলেন। এ কারণেই পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই তাদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নির্ভর একটি ভিন্ন মনোজগত গঠিত হয়।
যে কারণে দ্রুতই বাংলা ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন “বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি” নির্ভর আন্দোলনে পরিণত হয়। আর যে কোনো ভূখণ্ডের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে হাজার হাজার বছর ধরে। হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠার ফলে শিলা বা পাথর যেমন সহনশীল হয় সংস্কৃতিও তেমনি সহনশীল হয়। তাই ভাষাভিত্তিক কিছুটা উগ্র জাতীয়তাবাদ সংস্কৃতির জারকরসে পড়ার পরে নমনীয় ও উদার জাতীয়তাবাদে পরিণত হয়। যে কারণে বাঙালি জাতীয়তাবাদ অন্যান্য সংস্কৃতি নির্ভর জাতীয়তাবাদের মতোই উদার – যেখানে সকল ধর্ম ও গোত্র ও বর্ণের মানুষ একাত্ম হতে পারে সহজে।
শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আন্দোলনের পরে বার বার তাঁর নব জন্ম ঘটিয়েছেন নিজের জীবনের সর্বস্ব দিয়ে এই উদার বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে সংগ্রাম করে।

নিজ জীবনের তিনি যেমন তরুণ থেকে যুবক হয়েছেন, তেমনি নিজ জীবনের সংগ্রামকে এত কঠোর ও কষ্ট সহ্যের পথে নিয়ে গেছেন যে তাঁর জীবনের সংগ্রামই বড় নিয়ামক হয়েছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ গড়ে তুলতে। এবং নিজের জীবনের কঠোর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পূর্ববাংলার এমনকি পশ্চিমবাংলা থেকে আসা আধুনিক চিন্তার তরুণ গোষ্ঠীর।
অন্যদিকে তাঁর জীবনে পৃথিবীর কোন কোন গেম চেঞ্জারদের মত একটি সংঘ সাধনা ছিল। যে সংঘ বা সংগঠন চিন্তার মূল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য ছিল সত্ ও জাগতিক চিন্তা নির্ভর মানুষের শক্তিকে একত্রিত করা। জেল ভয়, মৃত্যু ভয় সব কিছুকে উপেক্ষা করে, নিজ যৌবন, জাগতিক সুখ, স্বাচ্ছন্দ্যকে উপেক্ষা করে যে সাহসের সূর্য তিনি তৈরি করেছিলেন, ওই সাহসের সূর্য রশ্মিই ছিল তার শক্তিশালী সংগঠন তৈরির মূল শক্তি।
যে কারণে সংগঠক শেখ মুজিবুর রহমান পৃথিবীর রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। একটি গোষ্ঠীকে নিয়ে অস্ত্রের জোরে পৃথিবীতে বার বার রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সমগ্র জাতিগোষ্ঠী বা ওই ভূখণ্ডের সকল মানবগোষ্ঠীকে নিয়ে রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে হলে প্রয়োজন হয় আদর্শ ভিত্তিক শক্তিশালী সংগঠন। যা অনেকটা মানব শরীরের মেরুদণ্ডের মতো। যার ওপর ভর করেই গোটা জাতি দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে পৃথিবীর সব জনগোষ্ঠীতে বেশিভাগ মানুষকে ব্যস্ত থাকতে হয় দৈনন্দিন জীবন যাপনের তাগিদ নিয়ে। এই মানুষকে জাগতিক রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠনের নিচে আনা অনেকটা অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো কাজ। যেমন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের দল কংগ্রেসও পারেনি সাধারণ মানুষকে জাগতিক চিন্তায় একত্র করতে। পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধী পারলৌকিক চিন্তা যোগ করে, নিজে পারলৌকিক চিন্তাধারীদের মতো পোশাক পরিচ্ছদ পরে – তবেই সাধারণ মানুষকে সংগঠনের পাশে নিয়ে আসেন।
এ কারণে এ উপমহাদেশে রাষ্ট্র সৃষ্টির আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই একমাত্র নেতা যিনি জাগতিক বিষয় দিয়ে অর্থাৎ ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অর্থনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মানুষকে একত্রিত করেছিলেন। জাগতিক এই চিন্তা ও লক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে তিনি মানুষকে একত্রিত করেছিলেন সাংগঠনিকভাবে।

তার সংগঠন সৃষ্টি ও রাষ্ট্র সৃষ্টির প্রতিটি মুহূর্ত বিশ্লেষণ করতে গেলে একটি করে বই লিখতে হয়। যা কোনো নিবন্ধে শেষ করা যায় না।
শুধু সংক্ষেপে বলা যায়, বিদ্যাসাগর যেমন বাংলাভাষাকে মহাসাগরমুখী করে দিয়ে গেছেন, রবীন্দ্রনাথ বাঙালিসহ মানব মনন তৈরি করার মহাসাগর তৈরি করে গেছেন, তেমনি আধুনিক জাগতিক রাষ্ট্রসৃষ্টির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেখে গেছেন পৃথিবীর বুকে একটি জাজ্বল্য পথ।
আর এই পথে তিনি ব্রাহ্মণের মত নিজ জীবনের অর্জন দিয়ে শুধু আরেকবার নিজেকে নবজন্ম দেননি। বরং আধুনিক বাঙালি ও আধুনিক পৃথিবীর অন্যতম চিন্তানায়ক রবীন্দ্রনাথের মতো বার বার জন্ম নিয়েছেন নিজের কাজের বাঁক পরিবর্তন করে। তাই ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিব নামক একটি সন্তানের জন্ম এই ভূখণ্ডে হলেও এই মানুষটি নিজেই নিজের কাজের ভেতর দিয়ে জন্ম নিয়েছেন বার বার।
একারণে শেখ মুজিবের জন্মদিন পালন না হলেও কিছু আসে যায় না। আবার পালন করলেও বাড়তি কিছু হয় না। বরং তাঁর জন্মদিন প্রকৃত অর্থে পালিত হবে যত বেশি সংখ্যক বাঙালি তাঁর মতো নিজের সমগ্র জীবনে বার বার পরিবর্তন এনে আধুনিকতার পথে এগিয়ে – নব জন্ম নিতে পারবে।
যেমন আজ যখন শেখ মুজিবের সৃষ্টি আধুনিক জাগতিক বাংলাদেশ পারলৌকিক আচরণের কাছে হারিয়ে যেতে বসেছে। এ সময়ে বাঙালি যদি শেখ মুজিবের মতো নিজেকে পরিবর্তনের সংগ্রামে, জাতিকে পরিবর্তনের সংগ্রামে নামতে পারে – সেটাই হবে বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মদিন পালন।
আর নিজেকে পরিবর্তন করার গৌরবের মুকুটটি তিনি বাঙালির মাথায় পরিয়ে দিয়ে গেছেন। কারণ, এই উপমহাদেশে বাঙালিই একমাত্র জাতিগোষ্টি যারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আধুনিক জাগতিক রাষ্ট্র গঠন করেছিল। তাই বাঙালির এই সংগ্রাম বা সাধনা চিরকালের পথেই চলবে। যার মর্মমূলে থাকবে ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের ঊর্ধ্বে উঠে আধুনিক জাগতিক রাষ্ট্র তৈরির পথে এগিয়ে চলা। এখানে থেকে সরে আসা মানেই অন্ধকার খাদে আটকে থাকা।
লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, সম্পাদক, সারাক্ষণ, The Present World.
স্বদেশ রায় 


















