০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
শিলাবৃষ্টিতে লালমনিরহাটে ব্যাপক ক্ষতি, ঘরহারা শতাধিক পরিবার আলমডাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নারীসহ ৬ জন গ্রেপ্তার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: ইয়েমেনের হামলায় উত্তেজনা চরমে, বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা চীনের শিক্ষাগুরু ঝ্যাং শুয়েফেংয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে আলোড়ন, স্বপ্ন বনাম বাস্তবতার নতুন প্রশ্ন ডলারের ঝড়ে এশিয়ার অর্থনীতি চাপে, তেলের দাম বাড়ায় দ্বিমুখী সংকট কিউবায় জ্বালানি অবরোধে ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাড়ছে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু এলপিজি সংকটে নতুন কৌশল, দূর দেশ থেকে জ্বালানি টানছে ভারত—ইরানেও ফিরল ক্রয় ইরান যুদ্ধ থামাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর দাবি, আলোচনায় না থাকলে সমাধান অসম্ভব আলজিয়ার্সে বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন, শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা সস্তা ড্রোনেই থামছে না যুদ্ধ: উপসাগরে ইরানের ছায়া আরও গভীর

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, তবে কিছু মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, চুক্তি সম্পন্ন হতে খুব বেশি দেরি নেই, কিন্তু কিছু বিষয় এখনো সমাধান প্রয়োজন।

প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা
ফেব্রুয়ারি মাসে U.S. Supreme Court (ইউ এস সুপ্রিম কোর্ট) একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়, যেখানে বলা হয় ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট Donald Trump (ডোনাল্ড ট্রাম্প) যে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনসম্মত ছিল না।
এই রায়ের পর ওয়াশিংটনে বাণিজ্য কর্মকর্তারা নতুন করে চুক্তির খুঁটিনাটি নির্ধারণে কাজ করছেন। প্রশাসন এখন বিকল্প আইনগত পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই শুল্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যার মধ্যে রয়েছে Office of the U.S. Trade Representative (অফিস অব দ্য ইউ এস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) পরিচালিত স্পেশাল থ্রি-জিরো-ওয়ান তদন্ত।

চুক্তির প্রধান মতপার্থক্য
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় সবচেয়ে বড় একটি মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে ডাল বা ডালজাতীয় কৃষিপণ্য নিয়ে।
ভারত চায় নিজেদের কৃষিখাতকে সুরক্ষা দিতে, বিশেষ করে ডাল উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় এই খাতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার।
কৃষি খাত দুই দেশের কাছেই অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই বিষয়ে সমঝোতা সহজ হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও ফ্যাক্ট শিট সংশোধন
গত মাসে White House (হোয়াইট হাউস) একটি তথাকথিত ফ্যাক্ট শিট প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় ভারত কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে, যার মধ্যে ডালের কথাও উল্লেখ ছিল।
কিন্তু এই তথ্য ভারতের সঙ্গে যৌথ বিবৃতির সঙ্গে মিল না থাকায় দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস নীরবে সংশোধিত ফ্যাক্ট শিট প্রকাশ করে, যেখানে ডালের উল্লেখ বাদ দেওয়া হয় এবং অন্যান্য অসঙ্গতিও ঠিক করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই খাতে বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

শুল্ক হ্রাস নিয়ে আলোচনা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য হলো শুল্ক ধাপে ধাপে কমানোর সময়সীমা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চায় এই প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করা হোক, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের আগেই শুল্ক কমানো শুরু করা।
এই বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

স্পেশাল থ্রি-জিরো-ওয়ান তদন্তে ব্যস্ত ওয়াশিংটন
বর্তমানে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য কর্মকর্তারা সরাসরি চুক্তির বাকি বিষয়গুলো সমাধানের দিকে মনোযোগ না দিয়ে স্পেশাল থ্রি-জিরো-ওয়ান তদন্তে বেশি ব্যস্ত।
মার্চ মাসে শুরু হওয়া এই তদন্তে ভারতসহ বহু দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ হিসেবে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

শুল্ক বাড়ানোর অনিশ্চয়তা
ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান ১০ শতাংশ সার্বজনীন শুল্ক ১৫ শতাংশে বাড়ানো হতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন। হোয়াইট হাউস কিংবা বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর—কেউই সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধির সময়সূচি বা সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

সমগ্র পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে থাকলেও কৃষি ও শুল্ক নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ঘোষণা কিছুটা সময় নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিলাবৃষ্টিতে লালমনিরহাটে ব্যাপক ক্ষতি, ঘরহারা শতাধিক পরিবার

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, তবে কিছু মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে

০৬:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, চুক্তি সম্পন্ন হতে খুব বেশি দেরি নেই, কিন্তু কিছু বিষয় এখনো সমাধান প্রয়োজন।

প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা
ফেব্রুয়ারি মাসে U.S. Supreme Court (ইউ এস সুপ্রিম কোর্ট) একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়, যেখানে বলা হয় ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট Donald Trump (ডোনাল্ড ট্রাম্প) যে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনসম্মত ছিল না।
এই রায়ের পর ওয়াশিংটনে বাণিজ্য কর্মকর্তারা নতুন করে চুক্তির খুঁটিনাটি নির্ধারণে কাজ করছেন। প্রশাসন এখন বিকল্প আইনগত পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই শুল্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যার মধ্যে রয়েছে Office of the U.S. Trade Representative (অফিস অব দ্য ইউ এস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) পরিচালিত স্পেশাল থ্রি-জিরো-ওয়ান তদন্ত।

চুক্তির প্রধান মতপার্থক্য
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় সবচেয়ে বড় একটি মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে ডাল বা ডালজাতীয় কৃষিপণ্য নিয়ে।
ভারত চায় নিজেদের কৃষিখাতকে সুরক্ষা দিতে, বিশেষ করে ডাল উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় এই খাতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার।
কৃষি খাত দুই দেশের কাছেই অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই বিষয়ে সমঝোতা সহজ হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও ফ্যাক্ট শিট সংশোধন
গত মাসে White House (হোয়াইট হাউস) একটি তথাকথিত ফ্যাক্ট শিট প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় ভারত কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে, যার মধ্যে ডালের কথাও উল্লেখ ছিল।
কিন্তু এই তথ্য ভারতের সঙ্গে যৌথ বিবৃতির সঙ্গে মিল না থাকায় দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস নীরবে সংশোধিত ফ্যাক্ট শিট প্রকাশ করে, যেখানে ডালের উল্লেখ বাদ দেওয়া হয় এবং অন্যান্য অসঙ্গতিও ঠিক করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই খাতে বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

শুল্ক হ্রাস নিয়ে আলোচনা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য হলো শুল্ক ধাপে ধাপে কমানোর সময়সীমা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চায় এই প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করা হোক, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের আগেই শুল্ক কমানো শুরু করা।
এই বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

স্পেশাল থ্রি-জিরো-ওয়ান তদন্তে ব্যস্ত ওয়াশিংটন
বর্তমানে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য কর্মকর্তারা সরাসরি চুক্তির বাকি বিষয়গুলো সমাধানের দিকে মনোযোগ না দিয়ে স্পেশাল থ্রি-জিরো-ওয়ান তদন্তে বেশি ব্যস্ত।
মার্চ মাসে শুরু হওয়া এই তদন্তে ভারতসহ বহু দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ হিসেবে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

শুল্ক বাড়ানোর অনিশ্চয়তা
ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান ১০ শতাংশ সার্বজনীন শুল্ক ১৫ শতাংশে বাড়ানো হতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন। হোয়াইট হাউস কিংবা বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর—কেউই সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধির সময়সূচি বা সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

সমগ্র পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে থাকলেও কৃষি ও শুল্ক নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ঘোষণা কিছুটা সময় নিতে পারে।