আলজেরিয়ার আলজিয়ার্সে বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে। ২৬ মার্চ দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সূচনা হয় সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজমুল হুদা।
সকালের আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী
উদযাপনের অংশ হিসেবে সকালে দূতাবাসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করে শোনান দূতাবাসের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ‘নতুন সূর্য’ শিরোনামের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে।

শহীদদের স্মরণ ও মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের কথা
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মো. নজমুল হুদা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে। তিনি বলেন, তিন মিলিয়ন শহীদের আত্মদান, দুই লাখ নির্যাতিত নারীর অসীম ত্যাগ এবং বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিদেশি বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন ভাবনা
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল বিজয় অর্জন করে নতুন সরকার গঠন করেছে। তিনি জানান, এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।

দোয়া মাহফিল ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ
আলোচনা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আলজিয়ার্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
সন্ধ্যায় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা
সন্ধ্যায় আলজিয়ার্সের ম্যারিয়ট হোটেলে একটি বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলজেরিয়ার জ্ঞান অর্থনীতি, স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী নূরেদ্দিন ওয়েদাহ। এছাড়াও স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুবনেতা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয় এবং অতিথিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করা হয়।
গণহত্যা দিবস পালনে শ্রদ্ধা ও সচেতনতা
এর আগে ২৫ মার্চ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত গণহত্যা দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, আলজেরিয়ান নাগরিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















