চীনের দ্রুত নগরায়ণের ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাংহাই ও শেনঝেনের মতো বড় শহরগুলোর দিকেই পর্যটন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারা বদলাতে শুরু করেছে। এখন ভ্রমণপ্রেমীরা শহরের কোলাহল ছেড়ে ছুটছেন দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের দিকে, যেখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।
গ্রামীণ পর্যটনে নতুন জোয়ার
কোভিড-পরবর্তী সময়ে চীনের গ্রামীণ অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নত অবকাঠামো এবং শহুরে জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। পাশাপাশি ভিসা নীতিতে শিথিলতা, বিশেষ করে বহুরাজ্য ভ্রমণের সুযোগসহ ১০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে।
সঙত্সাম লজ সিজং: হিমালয়ের কোলে বিলাস
ইউনান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, হিমালয়ের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত সঙত্সাম লজ সিজং এখন এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রতীক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই রিসোর্টটি লানচাং নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। চারপাশে আখরোট গাছ, প্রার্থনার পতাকা এবং পাহাড়ি প্রকৃতির মায়াবী পরিবেশ এটিকে অনন্য করে তুলেছে।
দুই বছরের সংস্কারের পর নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা এই রিসোর্টে এখন ২৬টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে রয়েছে কাঠের কারুকাজ, স্থানীয়ভাবে তৈরি কার্পেট এবং ব্যক্তিগত বারান্দা, যেখান থেকে নদী ও আঙুর বাগানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
এই রিসোর্ট শুধু একটি বিলাসবহুল থাকার জায়গা নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। ১৮৬৭ সালে ফরাসি মিশনারিদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে শুরু হওয়া মদ তৈরির ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে বিশেষ আঙুর বাগান। পাশাপাশি তিব্বতি, হান, বাই ও নাক্সি সংস্কৃতির এক মিশ্র পরিবেশও এখানে উপভোগ করা যায়।
পর্যটকেরা এখানে পাহাড়ি হ্রদে ভ্রমণ, ব্যক্তিগত আঙুর বাগানে স্বাদ গ্রহণ এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পান। বিশেষ করে মাখন চা, ধোঁয়ায় সংরক্ষিত মাংস এবং আখরোট তেলে রান্না করা ভাত ও সবজি এই অঞ্চলের বিশেষ আকর্ষণ।
স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ
সঙত্সাম ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা বাইমা দোজির উদ্যোগে এই প্রকল্পের সূচনা। তার পরিবারের ঐতিহ্যবাহী বাড়ি থেকেই শুরু হয়েছিল এই যাত্রা, যা এখন হিমালয়জুড়ে বিস্তৃত একাধিক রিসোর্টে পরিণত হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে সংরক্ষণ ও বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।
নতুন পর্যটন রুট চালুর মাধ্যমে এখন এমন সব দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে, যেখানে আগে যাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। এসব অঞ্চলে রয়েছে বিরল প্রাণী ও উদ্ভিদের বাসস্থান, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















