০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে বিশাল ‘পাখা-আকৃতির’ ভূগর্ভস্থ কাঠামোর সন্ধান, বদলে যেতে পারে পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের ধারণা ই-রিকশা দূর থেকে বন্ধের অভিযোগ: গুগল-অ্যাপলকে আরও ৭ ব্যাটারি অ্যাপ সরাতে ভারতের নির্দেশ ঢাকার হামলায় নিহত জাপানিদের স্মরণ করলেন বাংলাদেশের হাসিনা ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কা সামলাতে এশিয়ার ভরসা আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি কেড়ে নেবে চাকরি, নাকি খুলবে নতুন সম্ভাবনা? সাদ্দাম হোসেনের ‘হলিউড স্বপ্ন’: যুদ্ধের মধ্যেই নির্মিত হয়েছিল ইরাকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র পাঁচ দিনের শোকানুষ্ঠান শুরু: খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে বিশ্বনেতাদের সমাগম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় পাসপোর্ট সেবা চালু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোনালদোর গোল, স্পেনের দাপট, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে মদরিচ: বিশ্বকাপে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই

ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে বাধা, থমকে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডাটা সেন্টার নির্মাণে নতুন এক বাস্তবতা সামনে এসেছে। দ্রুত বিস্তারের যে স্বপ্ন নিয়ে প্রযুক্তি জায়ান্টরা এগোচ্ছিল, স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধ, বিদ্যুৎ সংকট এবং নীতিগত বাধার কারণে সেই গতি এখন ধীরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিরোধে আটকে যাচ্ছে প্রকল্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ডাটা সেন্টার নির্মাণ গত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল বিনিয়োগ করে নতুন কেন্দ্র গড়ে তুলছিল। কিন্তু এখন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং বাসিন্দারা এই প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।
তাদের প্রধান উদ্বেগ বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা, পানির ব্যবহার এবং বিশাল জমি দখল। ফলে অনেক প্রকল্প অনুমোদন পাচ্ছে না, কোথাও কর ছাড় বন্ধ হচ্ছে, আবার কোথাও সরাসরি স্থগিত হয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

২০২৫ সালে অন্তত ১৫৬ বিলিয়ন ডলারের ডাটা সেন্টার প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।
প্রযুক্তি খাতে বড় বড় কোম্পানির মূল্যায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে এই অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর। কিন্তু বাস্তবে বাধা বাড়ায় সেই প্রত্যাশা এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ

ডাটা সেন্টার চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইন ছাড়া এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এই অবকাঠামো তৈরি করতে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই বিরোধিতা বাড়ছে। অনেক এলাকায় বাসিন্দারা বলছেন, তাদের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নতুন অঞ্চলে ঝুঁকছে কোম্পানিগুলো

প্রতিরোধের কারণে অনেক কোম্পানি কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল যেমন টেক্সাস বা নিউ মেক্সিকোর মতো এলাকায় সরে যাচ্ছে। সেখানে জমি সহজলভ্য, রাজনৈতিক সমর্থন বেশি এবং বিদ্যুৎ সুবিধাও তুলনামূলক সহজ।
তবে এই সমাধান পুরোপুরি কার্যকর নয়, কারণ ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত সেবা দিতে হলে শহরের কাছাকাছি ডাটা সেন্টার থাকা জরুরি।

রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়ছে

ডাটা সেন্টার নির্মাণ এখন শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কর সুবিধা বন্ধ করা বা নতুন নিয়ম আরোপের দাবি উঠছে।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সন্দেহও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বাধাগুলো যদি বাড়তে থাকে, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের প্রত্যাশিত গতি কমে যেতে পারে।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত হলে নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণ কঠিন হয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে পুরো প্রযুক্তি শিল্পে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন

ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে বাধা, থমকে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়

০৯:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডাটা সেন্টার নির্মাণে নতুন এক বাস্তবতা সামনে এসেছে। দ্রুত বিস্তারের যে স্বপ্ন নিয়ে প্রযুক্তি জায়ান্টরা এগোচ্ছিল, স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধ, বিদ্যুৎ সংকট এবং নীতিগত বাধার কারণে সেই গতি এখন ধীরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিরোধে আটকে যাচ্ছে প্রকল্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ডাটা সেন্টার নির্মাণ গত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল বিনিয়োগ করে নতুন কেন্দ্র গড়ে তুলছিল। কিন্তু এখন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং বাসিন্দারা এই প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।
তাদের প্রধান উদ্বেগ বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা, পানির ব্যবহার এবং বিশাল জমি দখল। ফলে অনেক প্রকল্প অনুমোদন পাচ্ছে না, কোথাও কর ছাড় বন্ধ হচ্ছে, আবার কোথাও সরাসরি স্থগিত হয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

২০২৫ সালে অন্তত ১৫৬ বিলিয়ন ডলারের ডাটা সেন্টার প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।
প্রযুক্তি খাতে বড় বড় কোম্পানির মূল্যায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে এই অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর। কিন্তু বাস্তবে বাধা বাড়ায় সেই প্রত্যাশা এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ

ডাটা সেন্টার চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইন ছাড়া এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এই অবকাঠামো তৈরি করতে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই বিরোধিতা বাড়ছে। অনেক এলাকায় বাসিন্দারা বলছেন, তাদের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নতুন অঞ্চলে ঝুঁকছে কোম্পানিগুলো

প্রতিরোধের কারণে অনেক কোম্পানি কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল যেমন টেক্সাস বা নিউ মেক্সিকোর মতো এলাকায় সরে যাচ্ছে। সেখানে জমি সহজলভ্য, রাজনৈতিক সমর্থন বেশি এবং বিদ্যুৎ সুবিধাও তুলনামূলক সহজ।
তবে এই সমাধান পুরোপুরি কার্যকর নয়, কারণ ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত সেবা দিতে হলে শহরের কাছাকাছি ডাটা সেন্টার থাকা জরুরি।

রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়ছে

ডাটা সেন্টার নির্মাণ এখন শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কর সুবিধা বন্ধ করা বা নতুন নিয়ম আরোপের দাবি উঠছে।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সন্দেহও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বাধাগুলো যদি বাড়তে থাকে, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের প্রত্যাশিত গতি কমে যেতে পারে।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত হলে নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণ কঠিন হয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে পুরো প্রযুক্তি শিল্পে।