প্রতিদিন হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর হার গড়ে প্রায় প্রতিদিনই একই বা কাছাকাছি সংখ্যক থাকছে। কেউ কেউ বলছেন, বেশি আক্রান্ত অনেকগুলো জেলাতে এখন হামের প্রাদুর্ভাব কমে যাবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ঋতু পরিবর্তনের ফলে যদি সেটা কমে থাকে- অবশ্যই দেশের জন্য মঙ্গল। মানুষের জন্যও বড় সু-সংবাদ। কারণ, প্রতিদিন শিশু মৃত্যু- এর থেকে বড় যন্ত্রণা একটি জাতির কাঁধে আর কিছু হতে পারে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব দেশকে এখান থেকে বের করে আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেশের মানুষ লক্ষ্য করছে সরকার বিষয়টি শুধু অতীতের ব্যর্থতার ওপর ছেড়ে দিয়ে যেন বসে আছে। অতীত সব সময়ই অতীত। তাছাড়া মনে রাখতে হবে অতীতে কিছু এনজিও করা স্বার্থান্বেষী লোক ক্ষমতায় ছিল। তাই বর্তমানে যা ঘটছে সেখানে প্রয়োজনীয় মোকাবিলা করা ও সিদ্ধান্ত নেয়া এটাই মূলত এখন সরকারের কাজ।

গত দুই মাসের মতো সময় ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকারি হিসাবে যে ৪শ এর ওপরে শিশু মারা গেছে তার অধিকাংশই কিন্তু সময় মতো সঠিক চিকিৎসা পায়নি। কেন পায়নি সেই প্রশ্নের সমাধান পরে খুঁজতে হবে। এ মুহূর্তে প্রয়োজন আর যেন চিকিৎসার অবহেলা না হয়। আর সেজন্য প্রয়োজন দেশের সকল বিশেষজ্ঞ যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিশুদের জীবন রক্ষা করে। এ কাজ করতে হলে সরকারের সকল ধরনের প্রতিহিংসা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পরে যেমন দেশসেরা বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সামন্তলাল সেনকে সেবা দিতে দেওয়া হয়নি, এক্ষেত্রে যেন তেমন না হয়। কারণ, বিশেষজ্ঞের কাজ অন্যকে দিয়ে হয় না। অন্যদিকে অবিলম্বে হামের চিকিৎসাকে জরুরি ঘোষণা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
আর কোনো কিছু জরুরি ঘোষণা করলে যা যা ব্যবস্থা নিতে হয় সেগুলো অবিলম্বে নিতে হবে। এ কাজে যত দেরি হবে ততই একটি না একটি শিশুর মৃত্যু ঘটবে। শিশুর জীবনকে সবার ওপরে স্থান দেয়া হোক এটাই কিন্তু এ মুহূর্তে জাতির প্রতিটি সচেতন মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও কামনা।
সম্পাদকের টেবিল 


















