যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে বড় ধাক্কা তৈরি করেছে এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার আকস্মিক পদত্যাগ। ইরান যুদ্ধ নিয়ে নীতিগত দ্বিমতের জেরে দায়িত্ব ছাড়লেন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট। পদত্যাগপত্রে তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে তীব্র আপত্তি
পদত্যাগের ব্যাখ্যায় জো কেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, চলমান ইরান যুদ্ধকে তিনি নৈতিকভাবে সমর্থন করতে পারেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে বাইরের চাপের কারণে, বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রভাবশালী লবির চাপ এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো দেশকে আক্রমণ করতে হলে তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণ থাকা জরুরি বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
হোয়াইট হাউসের পাল্টা দাবি
তবে কেন্টের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এমন শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল, যা ইঙ্গিত দিচ্ছিল ইরান খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে।
তাদের দাবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অপ্রত্যাশিত পদত্যাগ, প্রশাসনে চাপ
জো কেন্টের পদত্যাগ প্রশাসনের ভেতরে অপ্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সমর্থক হিসেবেও তার অবস্থান সুস্পষ্ট ছিল।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড তুলনামূলক নীরব ছিলেন। তবে তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপলব্ধ সব তথ্য পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে সতর্ক বার্তা
যুদ্ধ শুরুর আগে এবং পরে জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিলের কয়েকটি মূল্যায়নে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ইরানের সরকার সহজে ভেঙে পড়বে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
এই মূল্যায়নগুলো ইঙ্গিত দেয়, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিতর্কও জোরদার
জো কেন্ট আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন তার রাজনৈতিক অবস্থান ও কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে। ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন।
তবে একই সঙ্গে কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা এখন বলছেন, ইরানকে ঘিরে তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণের অভাব নিয়ে কেন্টের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















