বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ সংবিধান সংস্কার হবে জনগণের প্রত্যাশা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্নকে সামনে রেখে—এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
জনআকাঙ্ক্ষা ও শহীদদের স্বপ্নের প্রতিফলন
শনিবার তিনি বলেন, সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তন এমনভাবে করা হবে যাতে তা সাধারণ মানুষের চাহিদা এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’-এর ভিত্তিতে সর্বসম্মতভাবে এই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংশোধন প্রক্রিয়া
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, একটি বিশেষ কমিটি সব দিক পর্যালোচনা করে প্রস্তাব তৈরি করবে। সেই প্রস্তাব রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে এবং সংসদে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
স্বাধীনতার ঘোষণার প্রশ্নে কমিটির সিদ্ধান্ত
সংবিধানে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টিও কমিটি বিবেচনা করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘জুলাই জাতীয় ঐকমত্য’-এর মূলনীতিকে গুরুত্ব দিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে বর্তমান প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়।
পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অঙ্গীকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক শুধু ক্ষমতার প্রতীক নয়, এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং মানুষের সেবার প্রতীক।
নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান
নবীন কর্মকর্তাদের সততা, সাহস এবং মানবিকতা নিয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাদের অভিনন্দন জানিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধান আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















