মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেল, যখন ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা ইসরায়েলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে যুদ্ধটি আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে উত্তেজনা বাড়ছে
যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে “খুব শক্তিশালী আলোচনা” চলছে। তবে শুক্রবার ও শনিবারের একাধিক হামলা প্রমাণ করে, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, আহত সেনা
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। এই হামলায় দুটি কেসি-১৩৫ সামরিক রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অন্যতম বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হামলা
পারস্য উপসাগর অঞ্চলেও হামলা ছড়িয়ে পড়ে। কুয়েতের একটি বেসামরিক বিমানবন্দর, ওমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং ইসরায়েল ও ইরানের বিভিন্ন শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হুথিদের হামলা ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইসরায়েলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী এই গোষ্ঠীর হামলা বৈশ্বিক বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ববাজার আগে থেকেই চাপে রয়েছে। গাজা যুদ্ধ চলাকালে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটিয়েছিল হুথিরা।
হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, “আগ্রাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত” ইয়েমেন থেকে হামলা চালানো হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানকে এই আগ্রাসনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরান ও মিত্রদের অনমনীয় অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলার মুখেও ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এখনো সফল হয়নি।
তেহরানে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু করেছে। একইসঙ্গে ইরান থেকেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যাতে তেল আবিবে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
ড্রোন হামলায় কুয়েত ও ওমান ক্ষতিগ্রস্ত
অন্যদিকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওমানের সালালাহ বন্দরেও হামলা হয়েছে। বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সৌদি আরবও তাদের আকাশসীমায় ড্রোন ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধ কয়েক মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে এবং এতে স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হবে না।
কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে ইরান বলছে, যোগাযোগ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা মিশর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করছে, যেখানে এই যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















