ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত থামাতে যেকোনো আলোচনা বা সমঝোতায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। একই সঙ্গে তারা বলছে, নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার থাকলেও তারা কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়।
আলোচনায় অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ইরান সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কোনো আলোচনায় তাদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে ইরান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে মতবিরোধ
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে একপাক্ষিক ও অন্যায্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রস্তাবে তাদের স্বার্থের প্রতিফলন নেই। তবে উত্তেজনা চললেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলেও ইঙ্গিত মিলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ানো হয়েছে। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, সমঝোতায় না এলে হামলা অব্যাহত থাকবে। এতে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

পরোক্ষ বার্তা বিনিময়, সরাসরি আলোচনা নয়
পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে। তুরস্ক ও মিসরসহ আরও কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে ইরান জানিয়েছে, এসব বার্তা বিনিময়কে তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখছে না।
তাদের অবস্থান স্পষ্ট—যুদ্ধ চলাকালীন তারা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং আপাতত আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই।
সংঘাতের বিস্তার ও বৈশ্বিক প্রভাব
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, যার ফলে তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।
সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা প্রযুক্তি, পরিবহন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য সংকটও তীব্র হতে পারে।
সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে
সংঘাতের মধ্যেই হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর আসছে। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
কূটনীতির পথ কি খুলবে
সব পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত। তবুও আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এই সংঘাত আরও বিস্তার লাভ না করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















