মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এলপিজি সরবরাহ প্রায় থেমে যাওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে দেশটি জ্বালানি সংগ্রহের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনে দূরবর্তী দেশ থেকেও এলপিজি আমদানি শুরু করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ বিরতির পর আবার ইরান থেকেও গ্যাস কেনা শুরু হয়েছে।
সংকটের পেছনে যুদ্ধের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এলপিজি সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয় ভারত। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার মতো দূরবর্তী বাজারে ঝুঁকেছে।
দূর দেশ থেকে জ্বালানি আনছে ভারত
আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় বিশ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এলপিজি ভারতে পৌঁছাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি সরবরাহ পেতে সময়ও বেশি লাগছে। তবুও সংকট মোকাবিলায় এই দীর্ঘ দূরত্বের আমদানিই এখন ভরসা হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আর্জেন্টিনা থেকে ভারতের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি এলপিজি পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক চালানও এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইরান থেকে ফের এলপিজি আমদানি
২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে এলপিজি কেনা বন্ধ করেছিল ভারত। তবে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় আবারও ইরান থেকে গ্যাস আমদানি শুরু হয়েছে। একটি ইরানি ট্যাংকার ইতোমধ্যে ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
ব্যয় বাড়লেও বিকল্প নেই
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও রাশিয়া থেকেও এলপিজি আসছে, তবে এসব উৎস থেকে আমদানির খরচ তুলনামূলক বেশি। তবুও সরবরাহ সচল রাখতে সব সম্ভাব্য উৎসই ব্যবহার করছে ভারত।
জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন বাস্তবতা
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের জ্বালানি কৌশলও বদলাচ্ছে। একক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















