০৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা: শিল্প ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: ১২ আমেরিকান সৈন্য আহত চীনের গ্রামে বিলাসবহুল পর্যটনের জোয়ার: হিমালয়ের কোলে নতুন আকর্ষণ সঙত্সাম লজ সিজং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সুইজারল্যান্ডে বিলাসবহুল ওয়েলনেস বিপ্লব: পাহাড়ের কোলে ‘হুস কুয়েল’-এ নতুন জীবনধারার সূচনা জাপানের আয়োমোরি উপকূলে মর্মান্তিক সংঘর্ষে নিহত ৪, উল্টে গেল মাছ ধরার নৌকা ডিপো থেকে তেল সরবরাহের সময় ২ ঘণ্টা এগিয়ে আনল বিপিসি মাতৃস্নেহের সুন্দরবন: এই বন আমাদের জীবন দেয়, আমাদের রক্ষা করে সংবিধান সংস্কারে জনআকাঙ্ক্ষা অগ্রাধিকার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থাকবে কেন্দ্রবিন্দু

সস্তা ড্রোনেই থামছে না যুদ্ধ: উপসাগরে ইরানের ছায়া আরও গভীর

উপসাগরজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরানের সস্তা কিন্তু মারাত্মক ড্রোন প্রযুক্তি। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে—এই ড্রোন যুদ্ধ সহজে থামার নয়।

ধ্বংস হওয়া কারখানা, কিন্তু থামেনি উৎপাদন

ইরানের একটি ড্রোন কারখানায় হামলার আগে ও পরে প্রকাশিত ছবিতে ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ এই ড্রোন তৈরি করতে বড় কারখানা জরুরি নয়। সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ও ছোট কর্মশালায়ও এগুলো তৈরি সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করা কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি এখন এতটাই সহজলভ্য যে এটি “সবার নাগালের অস্ত্র” হয়ে গেছে। ফলে কোথায় তৈরি হচ্ছে, কত দ্রুত তৈরি হচ্ছে—তা নজরদারি করা প্রায় অসম্ভব।

প্রতিদিনের হামলা, কমলেও থামেনি

সংঘাতের শুরুতে প্রতিদিন শত শত ড্রোন ছোড়া হলেও এখন সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। তবুও প্রতিদিন প্রায় সত্তর থেকে নব্বইটি ড্রোন ছোড়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ড্রোনগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে বেশি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে, কারণ দূরত্ব কম হওয়ায় প্রতিরোধের সময়ও কমে যায়। অনেক ড্রোন প্রতিহত করা হলেও কিছু আঘাত হানছে প্রাণঘাতীভাবে।

সস্তা ড্রোন বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা

ইরানের ব্যবহৃত শাহেদ ধরনের ড্রোনের দাম তুলনামূলক কম, কিন্তু এগুলো ঠেকাতে যে ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে, তার খরচ অনেক বেশি। এই অসম ব্যয়ের লড়াই দীর্ঘমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এই ড্রোনগুলো সহজেই ট্রাকে করে বহন করা যায় এবং অল্প সময়ে ছোড়া যায়, ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কৌশল বদলে এগোচ্ছে ইরান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি বড় শক্তির সঙ্গে লড়াইয়ে নামেনি। বরং তারা লক্ষ্য করছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো—যা প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করছে।

একই সঙ্গে সমুদ্রপথে প্রভাব বিস্তার করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা ও বৈশ্বিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার সহায়তায় ড্রোন উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। এতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফল

ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি একদিনে তৈরি হয়নি। কয়েক দশক ধরে ধাপে ধাপে উন্নয়নের মাধ্যমে এটি আজকের অবস্থানে এসেছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে তারা এই সক্ষমতা তৈরি করেছে।

সামনে কী

যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—ইরানের কাছে কত ড্রোন মজুত আছে এবং তারা কত দ্রুত নতুন ড্রোন তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতদিন টিকবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন

সস্তা ড্রোনেই থামছে না যুদ্ধ: উপসাগরে ইরানের ছায়া আরও গভীর

০৭:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

উপসাগরজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরানের সস্তা কিন্তু মারাত্মক ড্রোন প্রযুক্তি। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে—এই ড্রোন যুদ্ধ সহজে থামার নয়।

ধ্বংস হওয়া কারখানা, কিন্তু থামেনি উৎপাদন

ইরানের একটি ড্রোন কারখানায় হামলার আগে ও পরে প্রকাশিত ছবিতে ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ এই ড্রোন তৈরি করতে বড় কারখানা জরুরি নয়। সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ও ছোট কর্মশালায়ও এগুলো তৈরি সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করা কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি এখন এতটাই সহজলভ্য যে এটি “সবার নাগালের অস্ত্র” হয়ে গেছে। ফলে কোথায় তৈরি হচ্ছে, কত দ্রুত তৈরি হচ্ছে—তা নজরদারি করা প্রায় অসম্ভব।

প্রতিদিনের হামলা, কমলেও থামেনি

সংঘাতের শুরুতে প্রতিদিন শত শত ড্রোন ছোড়া হলেও এখন সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। তবুও প্রতিদিন প্রায় সত্তর থেকে নব্বইটি ড্রোন ছোড়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ড্রোনগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে বেশি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে, কারণ দূরত্ব কম হওয়ায় প্রতিরোধের সময়ও কমে যায়। অনেক ড্রোন প্রতিহত করা হলেও কিছু আঘাত হানছে প্রাণঘাতীভাবে।

সস্তা ড্রোন বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা

ইরানের ব্যবহৃত শাহেদ ধরনের ড্রোনের দাম তুলনামূলক কম, কিন্তু এগুলো ঠেকাতে যে ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে, তার খরচ অনেক বেশি। এই অসম ব্যয়ের লড়াই দীর্ঘমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এই ড্রোনগুলো সহজেই ট্রাকে করে বহন করা যায় এবং অল্প সময়ে ছোড়া যায়, ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কৌশল বদলে এগোচ্ছে ইরান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি বড় শক্তির সঙ্গে লড়াইয়ে নামেনি। বরং তারা লক্ষ্য করছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো—যা প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করছে।

একই সঙ্গে সমুদ্রপথে প্রভাব বিস্তার করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা ও বৈশ্বিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার সহায়তায় ড্রোন উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। এতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফল

ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি একদিনে তৈরি হয়নি। কয়েক দশক ধরে ধাপে ধাপে উন্নয়নের মাধ্যমে এটি আজকের অবস্থানে এসেছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে তারা এই সক্ষমতা তৈরি করেছে।

সামনে কী

যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—ইরানের কাছে কত ড্রোন মজুত আছে এবং তারা কত দ্রুত নতুন ড্রোন তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতদিন টিকবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।