০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

কিউবায় জ্বালানি অবরোধে ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাড়ছে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু

কিউবায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি এখন সরাসরি আঘাত হানছে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায়। চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে অনেক রোগীর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও তা হচ্ছে না। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে জীবনরক্ষাকারী সেবা হুমকির মুখে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটে জীবন ঝুঁকিতে

দেশজুড়ে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বহু রোগীর জীবন এখন অনিশ্চয়তায়। যেসব রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ব্যাটারি চালিত যন্ত্রগুলো দীর্ঘ সময় ধরে চালানো যাচ্ছে না, আর বিদ্যুৎ ফিরলেও পর্যাপ্ত চার্জ দেওয়ার সুযোগ মিলছে না। ফলে পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভয়াবহ চাপ

চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রোপচার বাতিল করা হচ্ছে, অনেক রোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাকর্মীরা কাজে পৌঁছাতে পারছেন না জ্বালানির অভাবে। কেমোথেরাপি ও ডায়ালাইসিসের মতো জরুরি চিকিৎসাও নিয়মিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। অ্যাম্বুলেন্সগুলো দাঁড়িয়ে আছে জ্বালানি সংকটে, আর ওষুধের দোকানগুলো প্রায় খালি।

ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ ভেঙে পড়া

ডিজেলনির্ভর কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। টিকার উপকরণ আমদানিও বাধাগ্রস্ত, কারণ বিমান চলাচল কমে গেছে জ্বালানির অভাবে। বিদ্যুৎ না থাকায় সংরক্ষিত টিকাও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অতীতের শক্তিশালী ব্যবস্থার পতন

একসময় কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য উদাহরণ ছিল। জীবন প্রত্যাশা ও শিশু মৃত্যুহার উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনীয় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি অবরোধ মিলিয়ে সেই সাফল্য দ্রুত ভেঙে পড়ছে।

গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ঝুঁকি

খাদ্য সংকটের কারণে অনেক গর্ভবতী নারী অপুষ্টিতে ভুগছেন, যার প্রভাব পড়ছে নবজাতকদের ওপর। হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে শিশু মৃত্যুহার বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

বিদ্যুৎহীন হাসপাতালে চরম বাস্তবতা

বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিকিৎসক ও নার্সরা হাতে চালিত যন্ত্র দিয়ে নবজাতকদের শ্বাস নিতে সাহায্য করছেন। অনেক জায়গায় বিকল্প হিসেবে কম্বল দিয়ে শিশুদের উষ্ণ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সামনে আরও কঠিন সময়ের আশঙ্কা

জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার সৌরশক্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং খাদ্য ব্যবস্থাও সংকটে পড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

কিউবায় জ্বালানি অবরোধে ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাড়ছে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু

০৭:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

কিউবায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি এখন সরাসরি আঘাত হানছে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায়। চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে অনেক রোগীর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও তা হচ্ছে না। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে জীবনরক্ষাকারী সেবা হুমকির মুখে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটে জীবন ঝুঁকিতে

দেশজুড়ে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বহু রোগীর জীবন এখন অনিশ্চয়তায়। যেসব রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ব্যাটারি চালিত যন্ত্রগুলো দীর্ঘ সময় ধরে চালানো যাচ্ছে না, আর বিদ্যুৎ ফিরলেও পর্যাপ্ত চার্জ দেওয়ার সুযোগ মিলছে না। ফলে পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভয়াবহ চাপ

চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রোপচার বাতিল করা হচ্ছে, অনেক রোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাকর্মীরা কাজে পৌঁছাতে পারছেন না জ্বালানির অভাবে। কেমোথেরাপি ও ডায়ালাইসিসের মতো জরুরি চিকিৎসাও নিয়মিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। অ্যাম্বুলেন্সগুলো দাঁড়িয়ে আছে জ্বালানি সংকটে, আর ওষুধের দোকানগুলো প্রায় খালি।

ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ ভেঙে পড়া

ডিজেলনির্ভর কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। টিকার উপকরণ আমদানিও বাধাগ্রস্ত, কারণ বিমান চলাচল কমে গেছে জ্বালানির অভাবে। বিদ্যুৎ না থাকায় সংরক্ষিত টিকাও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অতীতের শক্তিশালী ব্যবস্থার পতন

একসময় কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য উদাহরণ ছিল। জীবন প্রত্যাশা ও শিশু মৃত্যুহার উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনীয় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি অবরোধ মিলিয়ে সেই সাফল্য দ্রুত ভেঙে পড়ছে।

গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ঝুঁকি

খাদ্য সংকটের কারণে অনেক গর্ভবতী নারী অপুষ্টিতে ভুগছেন, যার প্রভাব পড়ছে নবজাতকদের ওপর। হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে শিশু মৃত্যুহার বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

বিদ্যুৎহীন হাসপাতালে চরম বাস্তবতা

বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিকিৎসক ও নার্সরা হাতে চালিত যন্ত্র দিয়ে নবজাতকদের শ্বাস নিতে সাহায্য করছেন। অনেক জায়গায় বিকল্প হিসেবে কম্বল দিয়ে শিশুদের উষ্ণ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সামনে আরও কঠিন সময়ের আশঙ্কা

জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার সৌরশক্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং খাদ্য ব্যবস্থাও সংকটে পড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।