১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

মন্দা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব শিল্পবাজার, নিউইয়র্কের নিলামেই জোয়ার

দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বিশ্ব শিল্পবাজার। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, গত বছরে বৈশ্বিক শিল্পকর্ম বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। তবে এই পুনরুদ্ধার মূলত উচ্চমূল্যের শিল্পকর্মের বিক্রির ওপর নির্ভরশীল বলেই উঠে এসেছে বিশ্লেষণে।

উচ্চমূল্যের নিলামেই বাজারে গতি

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাজারের এই উত্থানের বড় চালিকাশক্তি ছিল নিলাম বিক্রি। বিশেষ করে নিউইয়র্কে নভেম্বর মাসের বড় নিলাম সপ্তাহেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শিল্পকর্ম। একই সঙ্গে প্যারিসের একটি বড় শিল্পমেলায় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পের বহু উচ্চমূল্যের কাজ বিক্রি হয়েছে, যা বাজারে নতুন গতি এনে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের ওপরের স্তরের পারফরম্যান্সই সামগ্রিক প্রবণতা নির্ধারণ করছে। ক্রেতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কিছুটা ফিরলেও সবচেয়ে আধুনিক ধারার শিল্প নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

পুনরুদ্ধার হলেও পুরোপুরি নয়

যদিও বিক্রি বেড়েছে, তবুও বাজার এখনও পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। ২০২২ সালে যেখানে মোট বিক্রি ছিল প্রায় ৬৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বর্তমান অবস্থান এখনও কিছুটা নিচে। ফলে পুনরুদ্ধারকে ‘ধীর’ এবং ‘অসম’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য অটুট

বিশ্ব শিল্পবাজারে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে রয়েছে। মোট বিক্রির প্রায় ৪৪ শতাংশই এসেছে এই দেশ থেকে। এর পরেই রয়েছে ব্রিটেন ও চীন। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শুল্ক নীতির প্রভাব থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তই রয়েছে।

দামি শিল্পকর্মেই বাড়তি চাহিদা

১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি দামের শিল্পকর্মের নিলাম বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে ৫০ হাজার ডলারের কম মূল্যের শিল্পকর্মের বিক্রি কিছুটা কমেছে। নিউইয়র্কেই গত বছরে সর্বোচ্চ মূল্যের সবগুলো শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে একটি চিত্রকর্মের দাম উঠেছে ২৩৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে, যা ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ।

সমকালীন শিল্পে স্থবিরতা

মহামারির পরপরই সমকালীন শিল্প বাজারে দ্রুত উত্থান দেখা গেলেও এখন সেই গতি থমকে গেছে। অনেক গ্যালারি বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন গ্যালারি খোলার সংখ্যাও কম নয়। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে বড় ধরনের সংকোচনের প্রমাণ মেলেনি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

বাজারে আশাবাদের অন্যতম কারণ হলো প্রজন্মান্তরে বিপুল সম্পদ হস্তান্তরের সম্ভাবনা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দশকে ৮০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে যাবে, যা শিল্পবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বড় সংগ্রহ বিক্রির পরিকল্পনাও বাজারে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এসবের মাঝেও বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে এসব ঝুঁকির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

মন্দা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব শিল্পবাজার, নিউইয়র্কের নিলামেই জোয়ার

১০:০৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বিশ্ব শিল্পবাজার। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, গত বছরে বৈশ্বিক শিল্পকর্ম বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। তবে এই পুনরুদ্ধার মূলত উচ্চমূল্যের শিল্পকর্মের বিক্রির ওপর নির্ভরশীল বলেই উঠে এসেছে বিশ্লেষণে।

উচ্চমূল্যের নিলামেই বাজারে গতি

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাজারের এই উত্থানের বড় চালিকাশক্তি ছিল নিলাম বিক্রি। বিশেষ করে নিউইয়র্কে নভেম্বর মাসের বড় নিলাম সপ্তাহেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শিল্পকর্ম। একই সঙ্গে প্যারিসের একটি বড় শিল্পমেলায় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পের বহু উচ্চমূল্যের কাজ বিক্রি হয়েছে, যা বাজারে নতুন গতি এনে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের ওপরের স্তরের পারফরম্যান্সই সামগ্রিক প্রবণতা নির্ধারণ করছে। ক্রেতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কিছুটা ফিরলেও সবচেয়ে আধুনিক ধারার শিল্প নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

পুনরুদ্ধার হলেও পুরোপুরি নয়

যদিও বিক্রি বেড়েছে, তবুও বাজার এখনও পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। ২০২২ সালে যেখানে মোট বিক্রি ছিল প্রায় ৬৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বর্তমান অবস্থান এখনও কিছুটা নিচে। ফলে পুনরুদ্ধারকে ‘ধীর’ এবং ‘অসম’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য অটুট

বিশ্ব শিল্পবাজারে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে রয়েছে। মোট বিক্রির প্রায় ৪৪ শতাংশই এসেছে এই দেশ থেকে। এর পরেই রয়েছে ব্রিটেন ও চীন। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শুল্ক নীতির প্রভাব থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তই রয়েছে।

দামি শিল্পকর্মেই বাড়তি চাহিদা

১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি দামের শিল্পকর্মের নিলাম বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে ৫০ হাজার ডলারের কম মূল্যের শিল্পকর্মের বিক্রি কিছুটা কমেছে। নিউইয়র্কেই গত বছরে সর্বোচ্চ মূল্যের সবগুলো শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে একটি চিত্রকর্মের দাম উঠেছে ২৩৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে, যা ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ।

সমকালীন শিল্পে স্থবিরতা

মহামারির পরপরই সমকালীন শিল্প বাজারে দ্রুত উত্থান দেখা গেলেও এখন সেই গতি থমকে গেছে। অনেক গ্যালারি বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন গ্যালারি খোলার সংখ্যাও কম নয়। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে বড় ধরনের সংকোচনের প্রমাণ মেলেনি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

বাজারে আশাবাদের অন্যতম কারণ হলো প্রজন্মান্তরে বিপুল সম্পদ হস্তান্তরের সম্ভাবনা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দশকে ৮০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে যাবে, যা শিল্পবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বড় সংগ্রহ বিক্রির পরিকল্পনাও বাজারে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এসবের মাঝেও বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে এসব ঝুঁকির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।