লন্ডনে নিজের মতো একা থাকার স্বপ্ন এখন অনেকের কাছেই বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান ভাড়া ও আবাসন খরচের চাপে পড়েই বহু মানুষ, বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সীরা, বাধ্য হচ্ছেন অন্যদের সঙ্গে বাড়ি ভাগাভাগি করে থাকতে।
বাড়িভাড়া বাড়ছে, আয় বাড়ছে না
লন্ডনে আবাসনের খরচ এমনভাবে বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের আয় সেই গতির সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না। শহরটিতে গড় মাসিক ভাড়া প্রায় ২২০০ পাউন্ড, যেখানে গড় বার্ষিক আয় করের আগে প্রায় ৪৬ হাজার পাউন্ড। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি বাসাভাড়ায় খরচ হওয়া উচিত নয়, কিন্তু লন্ডনের ক্ষেত্রে এই সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে।
এই পরিস্থিতিতে একা থাকা অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ভাগাভাগি করে থাকার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
৩৫ পেরিয়েও রুমমেট—নতুন বাস্তবতা
সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, যাঁরা শেয়ারড বাসা খুঁজছেন তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ৩৫ বছরের বেশি বয়সী। এক দশক আগে এই হার ছিল অনেক কম।
লন্ডনে বসবাসকারী একাধিক পেশাজীবী জানিয়েছেন, খরচ সামলানোর জন্যই তাঁরা একাধিক রুমমেট নিয়ে থাকছেন। অনেক ক্ষেত্রে একটি বাড়িতে পাঁচ থেকে ছয়জন পর্যন্ত একসঙ্গে বসবাস করছেন।

ছোট জায়গা, বেশি ভাড়া
লন্ডনের বাসাগুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হলো জায়গার সংকট। একই বাড়িতে বেশি মানুষ রাখতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বসার ঘর পর্যন্ত বাদ দিয়ে অতিরিক্ত শোবার ঘর বানানো হচ্ছে। ফলে ভাড়াটিয়ারা বেশি টাকা দিয়েও কম জায়গা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন খরচের এই চাপ শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, পুরো অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। উচ্চ ভাড়ার কারণে মানুষ ভালো চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শহরের কেন্দ্রের কাছে যেতে পারছেন না। এতে শ্রমবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং উৎপাদনশীলতা কমছে।
এছাড়া, আয়ের বড় অংশ ভাড়ায় খরচ হয়ে যাওয়ায় মানুষের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির গতিকেও মন্থর করছে।
পরিবারে ফেরা ও শহরের বাইরে ছড়িয়ে পড়া
অনেক তরুণ-তরুণী দীর্ঘ সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন, যাতে কিছু টাকা সঞ্চয় করা যায়। আবার কেউ কেউ শহরের বাইরে তুলনামূলক কম ভাড়ার জায়গায় চলে যাচ্ছেন। এতে লন্ডনের আশপাশের এলাকাগুলোতেও ভাড়ার চাপ বাড়ছে।
সমাধান কোথায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল সমাধান হলো নতুন বাড়ির সরবরাহ বাড়ানো। কিন্তু পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি অনেক পিছিয়ে রয়েছে, ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















