ফেনীতে স্বামীর মতের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ওই নারী, যার জীবন এখন সংগ্রাম আর অপেক্ষার মধ্যে আটকে আছে।
ভোটের সিদ্ধান্তেই ভাঙন
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের দিন স্বামী তাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেন। কিন্তু সেই বাধা অমান্য করে তিনি তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সকালে ভোট দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মৌখিক তালাক দেন এবং বাড়িতে না ফেরার নির্দেশ দেন। এই ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
স্বামীর অনুপস্থিতি, স্ত্রীর অনিশ্চয়তা
ঘটনার পর থেকে স্বামী এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ওই গৃহবধূ এখন শ্বশুরবাড়িতেই সন্তানদের নিয়ে অবস্থান করছেন। দাম্পত্য জীবনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মানসিক ও আর্থিক দুই দিক থেকেই তিনি চরম সংকটে রয়েছেন।
সমাজের মধ্যস্থতা ও সমাধানের চেষ্টা
স্থানীয় সমাজপতি ও ধর্মীয় নেতারা এই ঘটনার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা পরিবারটিকে আবার একত্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সহায়তার আশ্বাস
ঘটনার পর রাজনৈতিক একটি পক্ষের নেতারা ওই গৃহবধূর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তারা নতুন ঘর নির্মাণ, মাসিক আর্থিক সহায়তা এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শিগগিরই এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সংগ্রামের জীবন
২০১৩ সালে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ওই নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিদিনের এই সংগ্রাম তার জীবনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যেখানে ভবিষ্যৎ এখনো অন্ধকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















