রাজধানীতে ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন গির্জার পুরোহিত, সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ সদস্যরা অংশ নেন।
ইস্টার সানডে নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ইস্টার সানডে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হলেও বাংলাদেশে এটি এখনো সাধারণ কর্মদিবস হিসেবে পালিত হয়। ফলে অনেককেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের প্রশ্ন
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নির্মল রোজারিও। তিনি বলেন, ইস্টার সানডে কর্মদিবস থাকলে অনেকেই বাধ্য হন ধর্মীয় দায়িত্ব ও চাকরির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে। এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত আই কররেয়া জানান, বিষয়টি নতুন নয়; প্রতি বছরই এই দাবি জানানো হয়, কিন্তু এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত আসেনি।
গির্জা পর্যায়েও প্রভাব
ঢাকার আর্চবিশপ হাউসের ফাদার আলবার্ট টি রোজারিও বলেন, কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই ইস্টারের মূল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পুরোপুরি অংশ নিতে পারেন না। এর প্রভাব সরাসরি গির্জা পর্যায়ে উপস্থিতিতেও পড়ছে।

তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধানের আহ্বান
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, চলতি বছরের ৫ এপ্রিলের ইস্টার সানডের জন্য নির্বাহী আদেশে একদিনের ছুটি ঘোষণা এবং ভবিষ্যতে এটি সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ঢাকা ক্রেডিটের সম্পাদক মঞ্জু মারিয়া পালমা বলেন, অনেক চাকরিজীবীর জন্য ছুটি নেওয়া সহজ নয়, তাই সরকারি ছুটি ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকরা জানান, একই দাবিতে ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















