জিও-পলিটিক্যাল উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে যেন বিপরীত সংকেত তৈরি করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইজরায়েল সংঘর্ষের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিপলাই রুট স্ট্রেইট অফ হরমুজ কার্যত আটকে পড়েছে, যার ফলে প্রতিদিনের তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় এক‑পঞ্চমাংশ বিশ্ব বাজারে আটকে গেছে। এর কারণে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম তিন মাসে অভূতপূর্বভাবে বেড়ে $১১৫‑১২০ প্রতি ব্যারেল পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটি নতুন রেকর্ড টানচাপের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তেলের দাম বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও বিশ্ব শেয়ার ও বন্ড বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। মার্কেট পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা ও যুদ্ধের দীর্ঘায়িত প্রভাব শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে দাবি করা হচ্ছে যে ব্রেন্ট ক্রুডের এই রাশির সুযোগে শেয়ারও কিছু সময়ে উন্নতি করেছে, যা ব্যয়ের শঙ্কার বিপরীত মত প্রকাশ করে।

এনার্জি শোক ও বাজারের মেলবন্ধন
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে হরমুজের অবরোধ যদি সপ্তাহ বা মাসের বেশি স্থায়ী হয়, তেলের দাম $১৯০ পর্যন্ত ছুঁতে পারে এবং বছরের বাকি সময় জুড়ে সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যান্য সেক্টরেও, বিশেষ করে কৃষি বা লজিস্টিক খাতে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ দূর্ভাগ্য লেগে থাকতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা সংকেত জোরদার করছে।
একদিকে, শেয়ার ও বন্ড বাজার ঝুঁকিতে রয়েছে, আরেক দিকে সোনা বা ঐতিহ্যগত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে থাকে না বলেই কিছু বাজার বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন। সাধারণত ভূ‑রাজনৈতিক অবনতি এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সময় সোনা নিরাপদ বন্দোবস্ত হিসেবে বিবেচিত হলেও সম্প্রতি তা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অবস্থান ও ভবিষ্যতের পথ
বিশ্ব অর্থনীতি জানতে চাইছে, এই বিরূপ পরিস্থিতি যত দিন স্থায়ী হয় ততদিন তেলের দাম ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হবে। দাম বেড়ে যাওয়া অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশে শেয়ার ও বিনিয়োগকারীরা বাজারে আরও সতর্কও হচ্ছেন।
এই সংকট বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ও মূল্য ধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে যদি হরমুজের পথ পুনরায় খুলে না যায়, তেলের শোক আর বাজারের অস্থিরতা আরও গভীরভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকে আকাণ্ডে ফেলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















