চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত ব্যাংক ঋণের সীমা প্রায় ছাড়িয়ে গেছে
সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক এপ্রিলে দুটি বিশেষ নিলামের মাধ্যমে মোট ১০ হাজার
কোটি টাকা সংগ্রহ করছে — ১ এপ্রিল পাঁচ হাজার কোটি এবং ৮ এপ্রিল আরও পাঁচ
হাজার কোটি টাকার ৯১ দিনের ট্রেজারি বিল নিলাম ডাকা হয়েছে। ডেইলি
স্টারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত
থেকে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৫২৬ কোটি টাকা, যা বার্ষিক
লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ চার হাজার কোটি টাকার ৯৯.৫৪ শতাংশ। অথচ অর্থবছর শেষ
হতে এখনো তিন মাস বাকি।

ঋণ বৃদ্ধির কারণ ও বাজারের তারল্য পরিস্থিতি
সরকারের ব্যয় চাপ কয়েকটি দিক থেকে একসঙ্গে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের
যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে জরুরি জ্বালানি
তেল কিনতে অতিরিক্ত অর্থ লেগেছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি,
কৃষিঋণ মওকুফ এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ও বেড়েছে। রাজস্ব আদায়
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হওয়ায় ব্যাংকিং খাত সরকারের প্রধান অর্থের উৎস
হয়ে উঠেছে। তবে বাজারে তারল্য পরিস্থিতি অনুকূল — মার্চ শেষে বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের স্থায়ী আমানত সুবিধায় প্রায় ১১ হাজার
৫০০ কোটি টাকা জমা রেখেছে, যা বিশেষ নিলামের জন্য বাজারে পর্যাপ্ত
তহবিলের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
বেসরকারি বিনিয়োগে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই অতিরিক্ত ঋণ বেসরকারি খাতকে “ক্রাউড আউট”
করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক
ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব আদায় কম
হলে সরকার বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ঋণ নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি
ঋণ নেওয়া বিশেষত মূল্যস্ফীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান বিশ্লেষকরা।
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে মোট এক লাখ ১০ হাজার কোটি
টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















