মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এশিয়াজুড়ে
বিমান সংস্থাগুলো মারাত্মক জ্বালানি সংকটে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন
অনুযায়ী, এই প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বিশ্বের ২১ শতাংশ সামুদ্রিক
জ্বালানি সরবরাহ হয়, যা এখন কার্যত বন্ধ। সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ কমে
যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কাটছাঁট করছে, নিজ দেশ থেকে অতিরিক্ত
জ্বালানি বহন করছে এবং নতুন রিফুয়েলিং স্টপ যুক্ত করছে। এভিয়েশন
কনসালট্যান্সি এন্ডাউ অ্যানালিটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা শুকর ইউসুফ বলেন,
বিমান সংস্থাগুলো ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন কারণ যুদ্ধ কখন শেষ হবে
এবং উপসাগর অঞ্চল থেকে কবে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা কেউ জানে না।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও সংস্থা
রয়টার্সের হিসাবে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসা অশোধিত তেল থেকে
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিদিন যে অন্তত চার লাখ ব্যারেল
জেট ফুয়েল উৎপাদিত হত, তা এখন ব্যাহত হচ্ছে। চীন ও থাইল্যান্ড জেট
ফুয়েল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া গত বছরের মাত্রায়
রপ্তানি সীমিত রাখার পর ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের মতো স্বল্প
আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে তীব্র সংকটে পড়েছে। মালয়েশিয়াভিত্তিক বাজেট
এয়ারলাইন এয়ারএশিয়া এক্স এখন কুয়ালালামপুর থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি
নিয়ে ভিয়েতনামে উড়ছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ইয়াপ
বলেন, হারানো জ্বালানির বিকল্প খোঁজা সহজ নয়, বিশেষত যখন এশিয়ার
শোধনাগারগুলোও উৎপাদন কমাচ্ছে।

ইউরোপেও সংকটের আশঙ্কা, শিল্প বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পর্যাপ্ত মজুদ
থাকলেও এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এপ্রিলে
বিমান বাতিলের কারণে এশিয়ায় চাহিদা প্রতিদিন মাত্র পঞ্চাশ হাজার থেকে
এক লাখ ব্যারেল কমেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সিরিয়াম-এর
এশিয়া সম্পাদক এলিস টেইলর বলেন, ফ্লাইট কাটছাঁটের এই চক্র সবে শুরু
হয়েছে এবং যদি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অর্থনৈতিক মন্দা ডেকে আনে, তাহলে
বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যাত্রী চাহিদাও কমতে পারে। তাইওয়ান ইতিমধ্যে
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে জ্বালানি সারচার্জ ১৫৭ শতাংশ বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















