দক্ষিণের অধিকার খর্বের আশঙ্কা
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিএমকে সভাপতি এম. কে. স্টালিন ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এমন কোনো উদ্যোগ যদি নেওয়া হয় যাতে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উত্তর ভারতের হাতে আরও বেশি রাজনৈতিক ক্ষমতা চলে যায়, তাহলে ডিএমকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে তা দেখবে না।
বিশেষ অধিবেশন নিয়ে আপত্তি
এপ্রিলের ১৬ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত ডিলিমিটেশন ইস্যুতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্টালিন। তাঁর অভিযোগ, পাঁচটি রাজ্যে ভোট চলাকালে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তড়িঘড়ি করে অধিবেশন ডাকা সন্দেহ তৈরি করছে। বিরোধী নেতারা অধিবেশনটি ২৯ এপ্রিলের পরে করার দাবি তুললেও কেন্দ্র তা মানছে না বলেও তিনি আক্ষেপ করেন।

গোপনীয়তা নিয়ে কেন্দ্রকে প্রশ্ন
স্টালিনের প্রধান অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার পুরো ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটি গোপনীয়তার আড়ালে রাখছে। তাঁর প্রশ্ন, সরকার কেন স্পষ্ট করে জানাচ্ছে না যে এই পুনর্বিন্যাস কীভাবে করা হবে। তাঁর মতে, এত বড় একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ বাড়বে, বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে।
বাজপেয়ীর সিদ্ধান্ত টেনে তুলনা
স্টালিন স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ডিলিমিটেশন ২৫ বছরের জন্য স্থগিত করেছিলেন। সেই উদাহরণ সামনে এনে তিনি জানতে চান, আজ দক্ষিণের রাজ্যগুলো যখন একই ধরনের যৌক্তিক দাবি তুলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জবাব কী।
অল-পার্টি বৈঠক ছাড়া সংশোধনী আনার অভিযোগ
স্টালিনের ভাষায়, সব দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই যদি সংবিধান সংশোধনের মতো সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক আচরণ নয়, বরং একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয়। তিনি বলেন, বিরোধী দল ও সংবাদমাধ্যম যেসব প্রশ্ন তুলছে, সেগুলোর কোনো উত্তর দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, অন্তত সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর কি সরকার দেবে?

দক্ষিণে ক্ষোভের বার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টালিন সতর্ক করে বলেন, শান্ত দক্ষিণকে ঝড়ে পরিণত করবেন না। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ডিলিমিটেশন প্রশ্নে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে যে রাজনৈতিক অস্বস্তি জমছে, সেটিকে তিনি শুধু প্রশাসনিক নয়, আঞ্চলিক ন্যায্যতার প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছেন।
বিতর্কের কেন্দ্রে কী
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় আশঙ্কা। দক্ষিণের অনেক রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। কিন্তু যদি ভবিষ্যতের আসন পুনর্বিন্যাস শুধু জনসংখ্যার ভিত্তিতে হয়, তাহলে তুলনামূলকভাবে জনবহুল উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো বেশি আসন পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। স্টালিনের বক্তব্যে সেই রাজনৈতিক উদ্বেগই সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















