০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার স্পিকারের ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফর, ১২৫ বছরে প্রথম বিশ্বব্যাংক: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশ, টানা তৃতীয় বছর দারিদ্র্য বাড়ছে ফার্মগেটে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় চার লাশ উদ্ধার, একজন ঝুলন্ত অবস্থায় মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিল পাস, দান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল সংসদে শ্রম আইন সংশোধনী বিল পাস, ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে বড় পরিবর্তন চীনকে পাশে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নজর, ইউরোপীয় কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে অগ্রাধিকার পেল ইরান বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপির বাদশা জয়ী, জামায়াতের কারচুপির অভিযোগ, সংসদে হট্টগোল চীনের বিদেশি রাষ্ট্রীয় সম্পদে কড়া নজরদারি, অস্থির বিশ্বে নতুন তদারকি দপ্তর সাবমেরিন কেবল মেরামতে ৮০ ঘণ্টা ইন্টারনেটে ধীরগতি, ব্যাহত হতে পারে সেবা

ইরান যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও লেবাননে নতুন সংকট, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার আগেই লেবানন সীমান্তে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল আবারও হামলা চালিয়েছে এবং জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা এই অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এই পরিস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা হলে তারা পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা বৈঠকে অংশ নেবে না। অর্থাৎ, তেহরান এখন যুদ্ধবিরতিকে শুধু নিজেদের সীমায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না; তারা চাইছে লেবাননকেও একই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে।

সংকটের নতুন কেন্দ্র লেবানন

ইসরায়েলের অবস্থান হলো, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ তাদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি। সে কারণে হিজবুল্লাহর অবস্থান, তৎপরতা বা সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে তারা অভিযান চালিয়ে যাবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিকে সীমিত পরিসরের হিসেবে দেখছে এবং তা লেবানন সীমান্তে নিজেদের সামরিক পদক্ষেপ থামানোর বাধ্যবাধকতা হিসেবে মানতে চাইছে না।

অন্যদিকে, ইরান এই অবস্থানকে বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধা হিসেবে দেখছে। তাদের বক্তব্য, যদি লেবাননে হামলা চলতেই থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। ফলে শান্তি আলোচনা বা নতুন সমঝোতার পথও দুর্বল হয়ে পড়ে।

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা,ঝুঁকিতে যুদ্ধবিরতি | Dhakepress

শান্তি প্রচেষ্টায় অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইরান আসলে চাপ সৃষ্টি করতে চায়। তারা বোঝাতে চাইছে, কেবল একটি অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে অন্য এলাকায় হামলা চালানো হলে তা টেকসই শান্তির পথ তৈরি করবে না। পাকিস্তানে সম্ভাব্য বৈঠকটি তাই এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যুদ্ধবিরতি কি আঞ্চলিকভাবে বিস্তৃত হবে, নাকি তা কেবল সীমিত সাময়িক সমঝোতা হিসেবেই থাকবে। যদি লেবাননকে বাদ দিয়ে সমঝোতা এগোয়, তাহলে নতুন সংঘাত আবারও বৃহত্তর উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

লেবাননে ইসরায়েলের তাণ্ডবে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার ঝুঁকি

পুরো পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাত আপাতত কমলেও তার মূল কারণগুলো এখনো দূর হয়নি। ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে আলাদা নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছে, আর ইরান সেটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই বিরোধ কীভাবে সামাল দেওয়া হয় তার ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় এই সংকট শুধু ইসরায়েল, ইরান বা লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক কূটনৈতিক পরীক্ষা, যেখানে একটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নির্ধারিত হচ্ছে তার ভৌগোলিক পরিসর, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আঞ্চলিক পক্ষগুলোর পারস্পরিক আস্থার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার স্পিকারের ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফর, ১২৫ বছরে প্রথম

ইরান যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও লেবাননে নতুন সংকট, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা

০৩:০০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার আগেই লেবানন সীমান্তে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল আবারও হামলা চালিয়েছে এবং জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা এই অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এই পরিস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা হলে তারা পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা বৈঠকে অংশ নেবে না। অর্থাৎ, তেহরান এখন যুদ্ধবিরতিকে শুধু নিজেদের সীমায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না; তারা চাইছে লেবাননকেও একই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে।

সংকটের নতুন কেন্দ্র লেবানন

ইসরায়েলের অবস্থান হলো, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ তাদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি। সে কারণে হিজবুল্লাহর অবস্থান, তৎপরতা বা সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে তারা অভিযান চালিয়ে যাবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিকে সীমিত পরিসরের হিসেবে দেখছে এবং তা লেবানন সীমান্তে নিজেদের সামরিক পদক্ষেপ থামানোর বাধ্যবাধকতা হিসেবে মানতে চাইছে না।

অন্যদিকে, ইরান এই অবস্থানকে বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধা হিসেবে দেখছে। তাদের বক্তব্য, যদি লেবাননে হামলা চলতেই থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। ফলে শান্তি আলোচনা বা নতুন সমঝোতার পথও দুর্বল হয়ে পড়ে।

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা,ঝুঁকিতে যুদ্ধবিরতি | Dhakepress

শান্তি প্রচেষ্টায় অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইরান আসলে চাপ সৃষ্টি করতে চায়। তারা বোঝাতে চাইছে, কেবল একটি অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে অন্য এলাকায় হামলা চালানো হলে তা টেকসই শান্তির পথ তৈরি করবে না। পাকিস্তানে সম্ভাব্য বৈঠকটি তাই এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যুদ্ধবিরতি কি আঞ্চলিকভাবে বিস্তৃত হবে, নাকি তা কেবল সীমিত সাময়িক সমঝোতা হিসেবেই থাকবে। যদি লেবাননকে বাদ দিয়ে সমঝোতা এগোয়, তাহলে নতুন সংঘাত আবারও বৃহত্তর উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

লেবাননে ইসরায়েলের তাণ্ডবে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার ঝুঁকি

পুরো পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাত আপাতত কমলেও তার মূল কারণগুলো এখনো দূর হয়নি। ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে আলাদা নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছে, আর ইরান সেটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই বিরোধ কীভাবে সামাল দেওয়া হয় তার ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় এই সংকট শুধু ইসরায়েল, ইরান বা লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক কূটনৈতিক পরীক্ষা, যেখানে একটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নির্ধারিত হচ্ছে তার ভৌগোলিক পরিসর, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আঞ্চলিক পক্ষগুলোর পারস্পরিক আস্থার ওপর।