ইরানকে ঘিরে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার আগেই লেবানন সীমান্তে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল আবারও হামলা চালিয়েছে এবং জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা এই অভিযান অব্যাহত রাখবে।
এই পরিস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা হলে তারা পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা বৈঠকে অংশ নেবে না। অর্থাৎ, তেহরান এখন যুদ্ধবিরতিকে শুধু নিজেদের সীমায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না; তারা চাইছে লেবাননকেও একই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে।
সংকটের নতুন কেন্দ্র লেবানন
ইসরায়েলের অবস্থান হলো, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ তাদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি। সে কারণে হিজবুল্লাহর অবস্থান, তৎপরতা বা সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে তারা অভিযান চালিয়ে যাবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিকে সীমিত পরিসরের হিসেবে দেখছে এবং তা লেবানন সীমান্তে নিজেদের সামরিক পদক্ষেপ থামানোর বাধ্যবাধকতা হিসেবে মানতে চাইছে না।
অন্যদিকে, ইরান এই অবস্থানকে বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধা হিসেবে দেখছে। তাদের বক্তব্য, যদি লেবাননে হামলা চলতেই থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। ফলে শান্তি আলোচনা বা নতুন সমঝোতার পথও দুর্বল হয়ে পড়ে।

শান্তি প্রচেষ্টায় অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইরান আসলে চাপ সৃষ্টি করতে চায়। তারা বোঝাতে চাইছে, কেবল একটি অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে অন্য এলাকায় হামলা চালানো হলে তা টেকসই শান্তির পথ তৈরি করবে না। পাকিস্তানে সম্ভাব্য বৈঠকটি তাই এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যুদ্ধবিরতি কি আঞ্চলিকভাবে বিস্তৃত হবে, নাকি তা কেবল সীমিত সাময়িক সমঝোতা হিসেবেই থাকবে। যদি লেবাননকে বাদ দিয়ে সমঝোতা এগোয়, তাহলে নতুন সংঘাত আবারও বৃহত্তর উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার ঝুঁকি
পুরো পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাত আপাতত কমলেও তার মূল কারণগুলো এখনো দূর হয়নি। ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে আলাদা নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছে, আর ইরান সেটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই বিরোধ কীভাবে সামাল দেওয়া হয় তার ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় এই সংকট শুধু ইসরায়েল, ইরান বা লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক কূটনৈতিক পরীক্ষা, যেখানে একটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নির্ধারিত হচ্ছে তার ভৌগোলিক পরিসর, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আঞ্চলিক পক্ষগুলোর পারস্পরিক আস্থার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















