জাতীয় সংসদ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম মানের সঙ্গে দেশের শ্রম আইনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এই বিলে ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার এবং শ্রমিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংস্কার আনা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

ছাঁটাই ক্ষতিপূরণে নতুন বিধান
সংশোধিত আইনে ধারা ১৪ অনুযায়ী ক্রমাগত চাকরির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে বারো মাসে ২৪০ দিন অথবা ছয় মাসে ১২০ দিন হিসেবে। ক্ষতিপূরণ গণনায় শেষ মাসের মজুরি ও ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধারা ১৬ অনুযায়ী তিন মাসের চাকরি সম্পন্ন এবং প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টারে নিবন্ধিত শ্রমিকরা পূর্ণ ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
ট্রেড ইউনিয়ন সুরক্ষা ও অন্যায় শ্রম চর্চা রোধ
বিলে নিয়োগকর্তাদের শ্রমিক বা ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যদের কালো তালিকাভুক্ত করা, নিয়োগকর্তা-নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়ন গঠন, প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন উৎসাহিত করা এবং ইউনিয়ন নেতাদের বৈষম্যমূলকভাবে বরখাস্ত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের বা অন্যায় শ্রম চর্চার তদন্তে অংশ নেওয়ার কারণে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াকে ট্রেড ইউনিয়ন বৈষম্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই সংস্কার আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও পোশাক শিল্পের সম্মতি মান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















