যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়া হাম রোগ এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে সেইসব শিশুদের জন্য, যারা এখনও এমএমআর টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে নবজাতকরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়ছে।
দক্ষিণ ক্যারোলিনায় বসবাসকারী একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা এই উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তাদের শিশু আর্থার তখনও টিকা নেওয়ার জন্য খুব ছোট ছিল, আর পরিবারের আরেকটি সন্তান জন্মের অপেক্ষায়। এর মধ্যেই এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হাম রোগ, ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরিবারটির সদস্য জন ওটওয়েল জানান, তারা নিয়মিত একটি বড় সুপারশপে যেতেন, যেটিকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অনেকেই হামকে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক বেশি গুরুতর—এমন সতর্কবার্তাই দিয়েছেন তিনি।

সংক্রমণ পরিস্থিতি ও টিকার চ্যালেঞ্জ
আর্থারের নয় মাস বয়সে যখন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, তখন পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাব যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে এমএমআর টিকার একটি ডোজ দেওয়া হয়। তবে গর্ভে থাকা শিশুটি অন্তত ছয় মাস বয়স না হওয়া পর্যন্ত টিকা নেওয়ার সুযোগ পাবে না।
চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশু এখনও টিকা নিতে পারে না, তারা হাম সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এই রোগ থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এমনকি মৃত্যুর মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষা পেতে হলে সমাজে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া জরুরি। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় এই হার কমে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ও বিস্তার
সাম্প্রতিক এক দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬৮ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় প্রায় এক হাজার সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে, যদিও কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

২০২৬ সালের শুরুতেই দেশজুড়ে ১৭টি আলাদা প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬৭১ ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
শিশু বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, টিকা না পাওয়া শিশুরা যেন “সহজ শিকার” হয়ে উঠছে। কারণ তাদের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
চিকিৎসকরা এখন অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশুদের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট তথ্য সবসময় পাওয়া যায় না, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
নীতিগত বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
একই সময়ে টিকা নেওয়ার বিষয়টি কিছু নীতিনির্ধারকের কাছে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে কিছু রাজ্যে টিকা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম শিথিল করার প্রস্তাবও উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি টিকাদানের হার আরও কমে যায়, তাহলে বহু বছর আগে নিয়ন্ত্রণে আনা রোগগুলো আবার ফিরে আসতে পারে।
এই অবস্থায় অনেক অভিভাবক নিজের সন্তানের পাশাপাশি অন্যদের সুরক্ষার কথা ভেবে আগেভাগেই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















