পাহাড় ও সমতলে ভিন্ন আঙ্গিক, তবু একই উৎসবের আনন্দ
প্রতি বছর এপ্রিলের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে নতুন এক আবহ তৈরি হয়। পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি প্রায় ১৭ কোটি মানুষের জন্য নতুন শুরুর প্রতীক।
ঢাকার ব্যস্ত নগরী থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদ—সবখানেই নববর্ষ আসে ভিন্ন ভিন্ন রূপে। সমতলে যেখানে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়, সেখানে পাহাড়ে এই উৎসব পরিচিত বৈসাবি নামে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুকসহ আরও কয়েকটি উৎসব।
সমতলে প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ
সমতলে পহেলা বৈশাখ বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব।
ঢাকার রমনা বটমূলে ভোরবেলা মানুষের ঢল নামে। রবীন্দ্রসংগীতের সুরে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে রঙিন মুখোশ ও প্রতীকী শিল্পকর্মের মাধ্যমে শুভ শক্তির আহ্বান জানানো হয়।
গ্রামাঞ্চলে হালখাতা খোলার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসাব মিটিয়ে নতুন বছরের সূচনা করেন, যা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্পর্কের প্রতীক।
পাহাড়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে উৎসব
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
চাকমাদের বিজু উৎসব তিনদিনব্যাপী পালিত হয়। ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দুঃখ-কষ্ট বিদায় জানানো হয়। এছাড়া ‘পাজন’ নামে বিশেষ সবজি রান্না এই উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবে পানি ছিটিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর রীতি রয়েছে, যা পুরনো বছরের সব দুঃখ দূর করার প্রতীক।

ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বৈসুক উৎসবে গরিয়া নৃত্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। অন্যদিকে তঞ্চঙ্গ্যা, খিয়াং ও ম্রো সম্প্রদায়ও নিজস্ব ঐতিহ্যে নববর্ষ উদযাপন করে।
ভিন্নতায় গড়ে ওঠা একতার বন্ধন
বাংলাদেশে ৪৫টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি থাকা সত্ত্বেও নববর্ষ সবার জন্য এক অভিন্ন আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে।
পাহাড়ের শিশুর ফুল ভাসানো, মারমা তরুণের পানির উৎসব কিংবা ঢাকার শিল্পীর মঙ্গল শোভাযাত্রা—সবই একই আশার প্রতিফলন।
নতুন বছর যেন মনে করিয়ে দেয়—অতীত পেছনে ফেলে সবাই মিলে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সময় এখন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















