মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং উভয় পক্ষই জানিয়েছে, স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সমঝোতা এপ্রিল মাসে ঘোষিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেবে।
সংঘাত থামাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দেয়। এর ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।
নতুন সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নেমে আসে প্রায় তিন মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত সাত হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা।
চুক্তির বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সমঝোতাকে সংঘাত বন্ধের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি এখনও হয়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, স্বাক্ষরিত স্মারকটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ নথি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।
ভ্যান্সের মতে, এতে ইরানের জন্য উল্লেখযোগ্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা
চুক্তির পরবর্তী ধাপে সবচেয়ে জটিল বিষয় হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য সামরিক নয়। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা ছাড়া তারা বড় কোনো ছাড় দেয়নি।
তবে সমঝোতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
লেবানন ইস্যুতে মতপার্থক্য
যুদ্ধবিরতির অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে আছে লেবানন। ইরান বলছে, চুক্তির অংশ হিসেবে সেখানে সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে এবং হিজবুল্লাহর হামলার জবাব দেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করবে।
মার্কিন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির শর্ত নয়।
যদিও চুক্তির ঘোষণার পর লেবাননে সংঘর্ষের মাত্রা কমেছে বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, তবে পুরোপুরি সহিংসতা বন্ধ হয়নি। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
#যুক্তরাষ্ট্র_ইরান #যুদ্ধবিরতি #হরমুজ_প্রণালি #মধ্যপ্রাচ্য #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #ইরান #লেবানন #হিজবুল্লাহ #তেলের_দাম #আন্তর্জাতিক_রাজনীতি #বিশ্বসংবাদ #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















