০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা জমাট বাঁধা অর্থ ছাড় নিয়ে বিভ্রান্তি, আলোচনার আগেই নতুন শর্ত তুলল ইরান ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, মাইন অপসারণে সমস্যায় ইরান শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, উত্তেজনার মাঝেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ তেল আছে শুধু সংসদে, মাঠে নেই—জ্বালানি সংকটে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিপদের শঙ্কা আইপিএলে টানা হার থামাতে মরিয়া চেন্নাই, দিল্লির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চীন-পাকিস্তান কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিরতিতে বড় ভূমিকা বেইজিংয়ের

কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা, পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি আস্তানায় হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলার সময় সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে, এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল ও সময়
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি
নিহত শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫) নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ওই আস্তানাটি দরবার শরিফ হিসেবে পরিচালনা করতেন।

হামলার বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘবদ্ধ একটি দল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আস্তানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা শামীম রেজাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পাশাপাশি আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং আগুন দেওয়া হয়। ওই সময় সেখানে কিছু ভক্তও উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পেছনের কারণ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ভিডিওতে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে শামীম রেজার বক্তব্য ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ আরও জানায়, ২০২৩ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শামীম রেজার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পেয়ে আবার আস্তানায় কার্যক্রম শুরু করেন।

পুলিশের অবস্থান
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার বলেন, হামলায় জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা স্থানীয় লোকজন। অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল, যা নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কারণে হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়।

তিনি আরও বলেন, কারা কারা এই হামলায় অংশ নিয়েছে তা শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা

কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা, পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

০৭:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি আস্তানায় হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলার সময় সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে, এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল ও সময়
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি
নিহত শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫) নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ওই আস্তানাটি দরবার শরিফ হিসেবে পরিচালনা করতেন।

হামলার বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘবদ্ধ একটি দল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আস্তানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা শামীম রেজাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পাশাপাশি আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং আগুন দেওয়া হয়। ওই সময় সেখানে কিছু ভক্তও উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পেছনের কারণ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ভিডিওতে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে শামীম রেজার বক্তব্য ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ আরও জানায়, ২০২৩ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শামীম রেজার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পেয়ে আবার আস্তানায় কার্যক্রম শুরু করেন।

পুলিশের অবস্থান
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার বলেন, হামলায় জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা স্থানীয় লোকজন। অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল, যা নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কারণে হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়।

তিনি আরও বলেন, কারা কারা এই হামলায় অংশ নিয়েছে তা শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।