ভারতের গ্রেট নিকোবর দ্বীপকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে এক বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা, যেখানে পর্যটনকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে দ্বীপটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্থায়ীভাবে মানুষের বসবাসও উৎসাহিত করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৫৫ সালের মধ্যে দ্বীপটিতে জনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজারে। একই সময় বছরে ১০ লাখের বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে যেখানে স্থানীয় নিকোবরবাসীর সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৫০০, তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১১ হাজার ৫০০-তে।
উন্নয়ন প্রকল্পে কী থাকছে
এই বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, আধুনিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি নতুন শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাস্তা, পানি সরবরাহ, জলাধার ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দ্বীপের বিভিন্ন অংশে আলাদা আলাদা ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। ক্যাম্পবেল বে এলাকায় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্র, গালাথিয়া বে এলাকায় মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস হাব এবং পূর্ব উপকূলজুড়ে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটনের নানা সম্ভাবনা
পরিকল্পনায় পর্যটনের বিভিন্ন ধরনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস পর্যটন, সমুদ্রসৈকতভিত্তিক পর্যটন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যভিত্তিক ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন, ব্যবসায়িক সম্মেলন পর্যটন এবং পরিবারভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক এবং বিনোদন পার্ক তৈরির পাশাপাশি ক্যাসিনোর সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ
তবে এই প্রকল্প নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয় নিকোবরবাসীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের বনাধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না করেই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা তাদের সম্মতি প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একদিকে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
পরিকল্পনাটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রধান অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে। এরপর ২০৩০ থেকে ২০৩৫ সালে পর্যটন কার্যক্রম বাড়ানো এবং অবকাঠামো উন্নয়ন জোরদার করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলোতে পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গ্রেট নিকোবর দ্বীপ একটি নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন পরিকল্পনায় পর্যটনকে প্রধান চালিকাশক্তি করে ২০৫৫ সালের মধ্যে লাখো পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য, তবে রয়েছে পরিবেশ ও অধিকার নিয়ে বিতর্ক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















