লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলায় নিহত এক বাংলাদেশি নারীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, এই দুঃখজনক ঘটনায় সরকার শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাগরকান্দা-সালথা এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, লেবাননে বাংলাদেশের দূতাবাসকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবুও সরকার সব বাধা অতিক্রম করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত নারী দীপালি আক্তার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শেখ মোফাজ্জল ওরফে মোকার শেখের মেয়ে। গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে একটি বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
জীবিকার তাগিদে ২০২৪ সালে লেবাননে গিয়েছিলেন দীপালি। সেখানে একটি পরিবারের সঙ্গে থেকে গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন তিনি। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অভিবাসনে মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হয়েছে যে, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মৃত্যুর এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারের ওপর, আর রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া—যাতে অন্তত শেষ বিদায়টা নিজ দেশের মাটিতে সম্পন্ন করা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















