০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি এশিয়ার খাদ্যভাণ্ডারে ধাক্কা: জ্বালানি ও সার সংকটে বিপর্যস্ত মেকং ডেল্টা নেতানিয়াহুর লক্ষ্য এখনও অসম্পূর্ণ, যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কমেনি মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশল, বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা চীনের ছোট শহরে ফাস্টফুড যুদ্ধ: ম্যাকডোনাল্ডস-কেএফসির নতুন দৌড় কোথায় গিয়ে থামবে এআইয়ের নতুন আতঙ্ক: ‘মিথোস’ কি সাইবার বিশ্বের ভারসাম্য বদলে দেবে? ইরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতির মাঝেও সামরিক শক্তির উত্থান: যুদ্ধেই লাভবান গার্ড বাহিনী শেয়ারবাজারে সূচক বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ার পতনে, বিনিয়োগকারীদের মাঝে মিশ্র সংকেত খুলনায় তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গভীর রাতে রক্তাক্ত ঘটনায় আতঙ্ক ফিলিপাইন কেন প্রবাসী আয় থেকে সরে গিয়ে প্রবাসী সম্পৃক্ততায় জোর দিচ্ছে

গণতন্ত্র দুর্বল হলে বাড়ে দেশত্যাগ: নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক বৈশ্বিক চিত্র

বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের দুর্বলতা এবং ব্যাপক অভিবাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে নতুন এক গবেষণা। সাম্প্রতিক এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব দেশে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা বাড়ছে, সেসব দেশ থেকে উদারপন্থী ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে সেই দেশগুলোর গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

গণতন্ত্র দুর্বল হলে কেন বাড়ে অভিবাসন

গবেষণায় দেখা যায়, যারা দেশ ছাড়তে চান, তারা সাধারণত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং সুশাসনের পক্ষে থাকেন। কিন্তু যখন নির্বাচনী অনিয়ম, দুর্নীতি বা দমনমূলক নীতি বাড়ে, তখন এসব মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। ফলে তারা উন্নত ও স্বাধীন পরিবেশের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমান।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, কোনো দেশে গণতন্ত্রবিরোধী ফলাফল আসার পরপরই মানুষের দেশ ছাড়ার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ রাজনৈতিক হতাশা সরাসরি অভিবাসনের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Dan Paget - Investigating what ideas best animate anti-autocratic movements  | LinkedIn

“ডেমোক্র্যাটিক ড্রেইন”: নতুন এক সংকট

গবেষণায় এই প্রবণতাকে “ডেমোক্র্যাটিক ড্রেইন” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা অনেকটা মেধাপাচারের মতো। যখন উদারপন্থী, শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরা দেশ ছাড়েন, তখন দেশে থেকে যায় তুলনামূলকভাবে কম সচেতন বা সরকারপন্থী জনগোষ্ঠী।

এর ফলে স্বৈরতান্ত্রিক শাসকরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন, কারণ তাদের বিরোধিতা করার মতো শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি কমে যায়।

স্বৈরশাসকদের কৌশলও স্পষ্ট

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অনেক স্বৈরশাসক ইচ্ছাকৃতভাবেই বিরোধী মতের মানুষদের দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করেন। এতে তারা অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে পারেন এবং নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন।

কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতিবাদ বা সংকটের সময় সীমান্ত খুলে দিয়ে জনগণকে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কমে।

How Autocrats Gained the Upper Hand | Lawfare

প্রবাসীরা কি পরিবর্তন আনতে পারে

একদিক থেকে বলা হয়, বিদেশে থাকা নাগরিকরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বা ভোটাধিকার ব্যবহার করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এর প্রভাব সবসময় ইতিবাচক নয়।

রেমিট্যান্স একদিকে পরিবারকে সহায়তা করলেও, অন্যদিকে দুর্বল অর্থনীতির স্বৈরশাসকদের টিকিয়ে রাখতেও সহায়তা করতে পারে। ফলে পরিবর্তনের গতি ধীর হয়ে যায়।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা

বিশ্ব এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে গণতন্ত্রপন্থী জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগ স্বৈরতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

এই বাস্তবতা শুধু কোনো একটি দেশের নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তাই শুধু নির্বাচন নয়, বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক আস্থার পুনর্গঠন এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি

গণতন্ত্র দুর্বল হলে বাড়ে দেশত্যাগ: নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক বৈশ্বিক চিত্র

১২:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের দুর্বলতা এবং ব্যাপক অভিবাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে নতুন এক গবেষণা। সাম্প্রতিক এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব দেশে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা বাড়ছে, সেসব দেশ থেকে উদারপন্থী ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে সেই দেশগুলোর গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

গণতন্ত্র দুর্বল হলে কেন বাড়ে অভিবাসন

গবেষণায় দেখা যায়, যারা দেশ ছাড়তে চান, তারা সাধারণত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং সুশাসনের পক্ষে থাকেন। কিন্তু যখন নির্বাচনী অনিয়ম, দুর্নীতি বা দমনমূলক নীতি বাড়ে, তখন এসব মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। ফলে তারা উন্নত ও স্বাধীন পরিবেশের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমান।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, কোনো দেশে গণতন্ত্রবিরোধী ফলাফল আসার পরপরই মানুষের দেশ ছাড়ার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ রাজনৈতিক হতাশা সরাসরি অভিবাসনের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Dan Paget - Investigating what ideas best animate anti-autocratic movements  | LinkedIn

“ডেমোক্র্যাটিক ড্রেইন”: নতুন এক সংকট

গবেষণায় এই প্রবণতাকে “ডেমোক্র্যাটিক ড্রেইন” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা অনেকটা মেধাপাচারের মতো। যখন উদারপন্থী, শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরা দেশ ছাড়েন, তখন দেশে থেকে যায় তুলনামূলকভাবে কম সচেতন বা সরকারপন্থী জনগোষ্ঠী।

এর ফলে স্বৈরতান্ত্রিক শাসকরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন, কারণ তাদের বিরোধিতা করার মতো শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি কমে যায়।

স্বৈরশাসকদের কৌশলও স্পষ্ট

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অনেক স্বৈরশাসক ইচ্ছাকৃতভাবেই বিরোধী মতের মানুষদের দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করেন। এতে তারা অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে পারেন এবং নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন।

কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতিবাদ বা সংকটের সময় সীমান্ত খুলে দিয়ে জনগণকে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কমে।

How Autocrats Gained the Upper Hand | Lawfare

প্রবাসীরা কি পরিবর্তন আনতে পারে

একদিক থেকে বলা হয়, বিদেশে থাকা নাগরিকরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বা ভোটাধিকার ব্যবহার করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এর প্রভাব সবসময় ইতিবাচক নয়।

রেমিট্যান্স একদিকে পরিবারকে সহায়তা করলেও, অন্যদিকে দুর্বল অর্থনীতির স্বৈরশাসকদের টিকিয়ে রাখতেও সহায়তা করতে পারে। ফলে পরিবর্তনের গতি ধীর হয়ে যায়।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা

বিশ্ব এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে গণতন্ত্রপন্থী জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগ স্বৈরতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

এই বাস্তবতা শুধু কোনো একটি দেশের নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তাই শুধু নির্বাচন নয়, বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক আস্থার পুনর্গঠন এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।