ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বরং নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইসরায়েলের পরবর্তী কৌশল নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি—বরং তাদের সামনে আরও লক্ষ্য অর্জনের বিষয় রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে শতাধিক স্থানে আঘাত হানা হয় এবং কয়েক শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে জানা গেছে। এতে বোঝা যায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাটির পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট সংকেত
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি সাময়িকভাবে দুর্বল করা গেলেও তা পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে আবার যুদ্ধ শুরু করেও বাকি লক্ষ্য অর্জন করা হবে।

লেবাননের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। তবে একই সময়ে ইসরায়েলি নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা হামলা চালানো বন্ধ করবে না যতক্ষণ না নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
জনমনে অনিশ্চয়তা ও হতাশা
দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এতদিনের যুদ্ধ কি কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দিয়েছে? যুদ্ধের পরও স্পষ্ট কোনো বিজয় বা স্থিতিশীলতা না থাকায় এই অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন অগ্রাধিকার
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে এসে আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ইসরায়েল বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের ওপর। এই ভিন্ন অগ্রাধিকার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক চাপও বড় ফ্যাক্টর
নেতানিয়াহুর সামনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও কম নয়। সামনে নির্বাচন থাকায় তিনি কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চাইছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামো টিকে থাকলে তারা আবার নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে। ফলে কয়েক বছরের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি থাকলেও প্রকৃত শান্তি এখনো অনেক দূরের বিষয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















