১০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষানীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বারবার বদল ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ’ ম্যাচ, কড়া নিরাপত্তায় আটলান্টা ১৮ শতকের রুটির জাদু, প্রাচীন পদ্ধতিতে নতুন প্রজন্মের মুগ্ধতা হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তায় ২০ শতাংশ ফি চাইল যুক্তরাষ্ট্র, তীব্র হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা বৈরিতা: ফুটবলের বাইরে দুই শতকের ইতিহাস, যুদ্ধ ও সম্পর্কের গল্প ভারতে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির দাবিতে অনশন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সোনম ওয়াংচুকের বার্তা সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ রথযাত্রা উৎসবে বড় ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গে আয়োজকদের ৫ লাখ টাকা করে অনুদান আকাশ ছুঁতে মাটির নিচে শিল্পীর অনন্য যাত্রা, ডেনমার্কে খুলল শততম আলো-আকাশের স্থাপনা মনিপুর সংকট: কুকি-জোদের আলোচনার উদ্যোগে মিজোরামের দ্বারস্থ, শান্তির পথে নতুন চেষ্টা

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

প্যারিসের মাটির নিচে শতাব্দী প্রাচীন এক অদ্ভুত জগত—ক্যাটাকম্বস। হাজার হাজার মানুষের হাড় দিয়ে তৈরি এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নতুন সংস্কারের পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। কয়েক মাস ধরে চলা এই সংস্কার কাজের ফলে এখন আরও আলোকিত, নিরাপদ ও দর্শনযোগ্য হয়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক স্থান।

ইতিহাসের গভীরে লুকানো মৃত্যুপুরী

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্যারিসের নিচে বিস্তৃত এই ক্যাটাকম্বসে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেহাবশেষ। শহরের কবরস্থানগুলো ভরে যাওয়ার পর অষ্টাদশ শতকে এই সুড়ঙ্গগুলোতে মৃতদের হাড় স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ধীরে ধীরে এক ধরনের ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে রূপ নেয়।

এই সুড়ঙ্গগুলোর দেয়াল, স্তম্ভ—সবই তৈরি হয়েছে মানুষের হাড় দিয়ে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে জীবনের অনিত্যতা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য হন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

নতুন সংস্কারে বদলে গেছে অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে এই ক্যাটাকম্বসে বড় ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। নতুন আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, হাড়ের দেয়াল পুনর্গঠন এবং আধুনিক অডিও নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগে অন্ধকারে ঢাকা অনেক অংশ এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ছিল জায়গাটির রহস্যময় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে এটিকে আরও নিরাপদ ও সহজে উপভোগযোগ্য করা।

চ্যালেঞ্জের মুখে সংস্কার কাজ

মাটির প্রায় ৬০ ফুট নিচে কাজ করা সহজ ছিল না। সংকীর্ণ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে শ্রমিকদের। অনেকেই শুরুতে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

তবে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে অনেকেই কাজ চালিয়ে যান। আলো প্রযুক্তিবিদরা এমনভাবে আলো বসিয়েছেন, যাতে স্থানটির গম্ভীরতা বজায় থাকে, আবার দর্শনার্থীরাও স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

সংরক্ষণ আর সম্মানের ভারসাম্য

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—সংরক্ষণ ও দর্শন অভিজ্ঞতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে আগে দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, হাড়ে ছত্রাক ধরছিল।

সংস্কারকর্মীরা হাড়গুলোকে আগের জায়গায় বসাতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছেন, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।

মৃত্যু নিয়ে নতুন করে ভাবার জায়গা

এই ক্যাটাকম্বসে কাজ করা শ্রমিকদের অনেকেই বলেছেন, এখানে কাজ করতে গিয়ে তারা জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা নতুন করে উপলব্ধি করেছেন। হাড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস, রোগের চিহ্ন, কষ্টের গল্প—সবই যেন জীবনের কঠিন সত্য তুলে ধরে।

এই সংস্কারের পর আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এই রহস্যময় ভূগর্ভস্থ শহর, যেখানে প্রতিটি দেয়ালই মনে করিয়ে দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস চিরন্তন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষানীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বারবার বদল

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

০২:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

প্যারিসের মাটির নিচে শতাব্দী প্রাচীন এক অদ্ভুত জগত—ক্যাটাকম্বস। হাজার হাজার মানুষের হাড় দিয়ে তৈরি এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নতুন সংস্কারের পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। কয়েক মাস ধরে চলা এই সংস্কার কাজের ফলে এখন আরও আলোকিত, নিরাপদ ও দর্শনযোগ্য হয়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক স্থান।

ইতিহাসের গভীরে লুকানো মৃত্যুপুরী

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্যারিসের নিচে বিস্তৃত এই ক্যাটাকম্বসে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেহাবশেষ। শহরের কবরস্থানগুলো ভরে যাওয়ার পর অষ্টাদশ শতকে এই সুড়ঙ্গগুলোতে মৃতদের হাড় স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ধীরে ধীরে এক ধরনের ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে রূপ নেয়।

এই সুড়ঙ্গগুলোর দেয়াল, স্তম্ভ—সবই তৈরি হয়েছে মানুষের হাড় দিয়ে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে জীবনের অনিত্যতা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য হন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

নতুন সংস্কারে বদলে গেছে অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে এই ক্যাটাকম্বসে বড় ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। নতুন আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, হাড়ের দেয়াল পুনর্গঠন এবং আধুনিক অডিও নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগে অন্ধকারে ঢাকা অনেক অংশ এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ছিল জায়গাটির রহস্যময় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে এটিকে আরও নিরাপদ ও সহজে উপভোগযোগ্য করা।

চ্যালেঞ্জের মুখে সংস্কার কাজ

মাটির প্রায় ৬০ ফুট নিচে কাজ করা সহজ ছিল না। সংকীর্ণ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে শ্রমিকদের। অনেকেই শুরুতে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

তবে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে অনেকেই কাজ চালিয়ে যান। আলো প্রযুক্তিবিদরা এমনভাবে আলো বসিয়েছেন, যাতে স্থানটির গম্ভীরতা বজায় থাকে, আবার দর্শনার্থীরাও স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

সংরক্ষণ আর সম্মানের ভারসাম্য

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—সংরক্ষণ ও দর্শন অভিজ্ঞতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে আগে দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, হাড়ে ছত্রাক ধরছিল।

সংস্কারকর্মীরা হাড়গুলোকে আগের জায়গায় বসাতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছেন, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।

মৃত্যু নিয়ে নতুন করে ভাবার জায়গা

এই ক্যাটাকম্বসে কাজ করা শ্রমিকদের অনেকেই বলেছেন, এখানে কাজ করতে গিয়ে তারা জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা নতুন করে উপলব্ধি করেছেন। হাড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস, রোগের চিহ্ন, কষ্টের গল্প—সবই যেন জীবনের কঠিন সত্য তুলে ধরে।

এই সংস্কারের পর আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এই রহস্যময় ভূগর্ভস্থ শহর, যেখানে প্রতিটি দেয়ালই মনে করিয়ে দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস চিরন্তন।