০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ অভিভাবকহীন এক পরিবার: অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তারের পর ভাইবোনদের কাঁধে সংসারের ভার নাগরিক উদ্যোগে কঠোরতা: যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটাধিকার নিয়ে নতুন লড়াই ভ্যান্সের কূটনৈতিক পরীক্ষা: যুদ্ধবিরতির সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নতুন মোড় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বিশ্ব রাজনীতিতে ধাক্কা, আস্থার সংকটে আমেরিকার নেতৃত্ব নেটো জোটে ভাঙনের আশঙ্কা: ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা কিউবায় ক্ষোভ বাড়ছে, তবু বিদ্রোহের সম্ভাবনা কম—সংকটে জর্জরিত দ্বীপে নতুন বাস্তবতা জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি এশিয়ার খাদ্যভাণ্ডারে ধাক্কা: জ্বালানি ও সার সংকটে বিপর্যস্ত মেকং ডেল্টা নেতানিয়াহুর লক্ষ্য এখনও অসম্পূর্ণ, যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কমেনি মধ্যপ্রাচ্যে

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

প্যারিসের মাটির নিচে শতাব্দী প্রাচীন এক অদ্ভুত জগত—ক্যাটাকম্বস। হাজার হাজার মানুষের হাড় দিয়ে তৈরি এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নতুন সংস্কারের পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। কয়েক মাস ধরে চলা এই সংস্কার কাজের ফলে এখন আরও আলোকিত, নিরাপদ ও দর্শনযোগ্য হয়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক স্থান।

ইতিহাসের গভীরে লুকানো মৃত্যুপুরী

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্যারিসের নিচে বিস্তৃত এই ক্যাটাকম্বসে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেহাবশেষ। শহরের কবরস্থানগুলো ভরে যাওয়ার পর অষ্টাদশ শতকে এই সুড়ঙ্গগুলোতে মৃতদের হাড় স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ধীরে ধীরে এক ধরনের ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে রূপ নেয়।

এই সুড়ঙ্গগুলোর দেয়াল, স্তম্ভ—সবই তৈরি হয়েছে মানুষের হাড় দিয়ে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে জীবনের অনিত্যতা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য হন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

নতুন সংস্কারে বদলে গেছে অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে এই ক্যাটাকম্বসে বড় ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। নতুন আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, হাড়ের দেয়াল পুনর্গঠন এবং আধুনিক অডিও নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগে অন্ধকারে ঢাকা অনেক অংশ এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ছিল জায়গাটির রহস্যময় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে এটিকে আরও নিরাপদ ও সহজে উপভোগযোগ্য করা।

চ্যালেঞ্জের মুখে সংস্কার কাজ

মাটির প্রায় ৬০ ফুট নিচে কাজ করা সহজ ছিল না। সংকীর্ণ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে শ্রমিকদের। অনেকেই শুরুতে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

তবে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে অনেকেই কাজ চালিয়ে যান। আলো প্রযুক্তিবিদরা এমনভাবে আলো বসিয়েছেন, যাতে স্থানটির গম্ভীরতা বজায় থাকে, আবার দর্শনার্থীরাও স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

সংরক্ষণ আর সম্মানের ভারসাম্য

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—সংরক্ষণ ও দর্শন অভিজ্ঞতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে আগে দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, হাড়ে ছত্রাক ধরছিল।

সংস্কারকর্মীরা হাড়গুলোকে আগের জায়গায় বসাতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছেন, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।

মৃত্যু নিয়ে নতুন করে ভাবার জায়গা

এই ক্যাটাকম্বসে কাজ করা শ্রমিকদের অনেকেই বলেছেন, এখানে কাজ করতে গিয়ে তারা জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা নতুন করে উপলব্ধি করেছেন। হাড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস, রোগের চিহ্ন, কষ্টের গল্প—সবই যেন জীবনের কঠিন সত্য তুলে ধরে।

এই সংস্কারের পর আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এই রহস্যময় ভূগর্ভস্থ শহর, যেখানে প্রতিটি দেয়ালই মনে করিয়ে দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস চিরন্তন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

০২:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

প্যারিসের মাটির নিচে শতাব্দী প্রাচীন এক অদ্ভুত জগত—ক্যাটাকম্বস। হাজার হাজার মানুষের হাড় দিয়ে তৈরি এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নতুন সংস্কারের পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। কয়েক মাস ধরে চলা এই সংস্কার কাজের ফলে এখন আরও আলোকিত, নিরাপদ ও দর্শনযোগ্য হয়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক স্থান।

ইতিহাসের গভীরে লুকানো মৃত্যুপুরী

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্যারিসের নিচে বিস্তৃত এই ক্যাটাকম্বসে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেহাবশেষ। শহরের কবরস্থানগুলো ভরে যাওয়ার পর অষ্টাদশ শতকে এই সুড়ঙ্গগুলোতে মৃতদের হাড় স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ধীরে ধীরে এক ধরনের ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে রূপ নেয়।

এই সুড়ঙ্গগুলোর দেয়াল, স্তম্ভ—সবই তৈরি হয়েছে মানুষের হাড় দিয়ে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে জীবনের অনিত্যতা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য হন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

নতুন সংস্কারে বদলে গেছে অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে এই ক্যাটাকম্বসে বড় ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। নতুন আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, হাড়ের দেয়াল পুনর্গঠন এবং আধুনিক অডিও নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগে অন্ধকারে ঢাকা অনেক অংশ এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ছিল জায়গাটির রহস্যময় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে এটিকে আরও নিরাপদ ও সহজে উপভোগযোগ্য করা।

চ্যালেঞ্জের মুখে সংস্কার কাজ

মাটির প্রায় ৬০ ফুট নিচে কাজ করা সহজ ছিল না। সংকীর্ণ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে শ্রমিকদের। অনেকেই শুরুতে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

তবে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে অনেকেই কাজ চালিয়ে যান। আলো প্রযুক্তিবিদরা এমনভাবে আলো বসিয়েছেন, যাতে স্থানটির গম্ভীরতা বজায় থাকে, আবার দর্শনার্থীরাও স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন।

In Paris's Catacombs, Can a Restoration Breathe New Life Into City's Dead? - The New York Times

সংরক্ষণ আর সম্মানের ভারসাম্য

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—সংরক্ষণ ও দর্শন অভিজ্ঞতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে আগে দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, হাড়ে ছত্রাক ধরছিল।

সংস্কারকর্মীরা হাড়গুলোকে আগের জায়গায় বসাতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছেন, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।

মৃত্যু নিয়ে নতুন করে ভাবার জায়গা

এই ক্যাটাকম্বসে কাজ করা শ্রমিকদের অনেকেই বলেছেন, এখানে কাজ করতে গিয়ে তারা জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা নতুন করে উপলব্ধি করেছেন। হাড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস, রোগের চিহ্ন, কষ্টের গল্প—সবই যেন জীবনের কঠিন সত্য তুলে ধরে।

এই সংস্কারের পর আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এই রহস্যময় ভূগর্ভস্থ শহর, যেখানে প্রতিটি দেয়ালই মনে করিয়ে দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস চিরন্তন।