পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর চামড়া। আর সেই সঙ্গে পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকায় জমে উঠেছে দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার বাজার। ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে রাজধানীতে পৌঁছানো হাজার হাজার গরু ও ছাগলের চামড়ায় এখন সরগরম পুরো এলাকা।
ঈদের পর থেকেই পোস্তা বাজারে দেখা গেছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা চামড়া বাজারে এনে নামানো হচ্ছে, এরপর সেগুলো আকার ও মান অনুযায়ী আলাদা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণের কাজও চলছে, যাতে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

চামড়া সংরক্ষণে ব্যস্ত শ্রমিকরা
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে চামড়া সংরক্ষণ এ সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাজারের গুদাম ও অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের নিরলসভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। চামড়ার স্তূপে লবণ প্রয়োগ করে সেগুলো দীর্ঘ সময় ভালো রাখার চেষ্টা চলছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে চামড়ার মান দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে ঈদের পরপরই চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের আগে সংরক্ষণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাভারের ট্যানারিগুলোতে যাচ্ছে চামড়া

পোস্তা বাজারে প্রাথমিক বাছাই ও সংরক্ষণের পর চামড়াগুলো পাঠানো হচ্ছে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে। সেখানে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে দেশের চামড়া শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা হবে।
প্রতি বছরের মতো এবারও এই মৌসুমি বাণিজ্য দেশের চামড়া খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাজারে ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
দাম নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা

সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ এবং সংরক্ষণে সহায়তার জন্য বিনা মূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিলেও অনেক ব্যবসায়ীর মধ্যে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তারা আশা করছেন, সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবার চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে।
শুক্রবার পোস্তা বাজারজুড়ে দেখা গেছে ব্যস্ততার এক ভিন্ন চিত্র। কোথাও শ্রমিকরা কাঁধে করে চামড়া বহন করছেন, কোথাও চলছে দরদাম, আবার কোথাও সারি সারি লবণযুক্ত চামড়া সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ঈদের পর দেশের অন্যতম বৃহৎ মৌসুমি বাণিজ্যিক কার্যক্রম হিসেবে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পোস্তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















