পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কোরবানির পশুর চামড়া পাচার, চোরাচালান এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি।
বিজিবি জানিয়েছে, ঈদের সময় দেশে বিপুল পরিমাণ পশু কোরবানি হওয়ায় চামড়া পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনী।

সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে টহল
বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত অপরাধ দমনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই চামড়া বা অন্যান্য পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতে না পারে।
তাদের মতে, চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো কর্মকাণ্ড রোধে সীমান্তজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় মানুষকে সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবি মনে করছে, জনসচেতনতা বাড়লে সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজর
প্রায় ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তের কয়েকটি এলাকাকে চামড়া পাচারের সম্ভাব্য রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
কাশিপুর, শালকোনা, শিকারপুর, ধান্যখোলা, রঘুনাথপুর, পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, ঘিবা, গোগা, রুদ্রপুর, আগ্রাভুলোট, পাঁচভুলোট ও দাদখালীসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি চলছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের পর ব্যবস্থা
চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে ঈদকেন্দ্রিক চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি বলছে, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের সম্পদ রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















