কিউবায় দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও খাদ্য সংকট নতুন করে জনঅসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ছোট ছোট বিক্ষোভ দেখা গেলেও বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষোভ এখনই বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
জ্বালানি সংকট থেকে বিক্ষোভ
চলতি বছরের শুরু থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার পর কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্য সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে রাতের বেলা হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ, দেয়ালে সরকারবিরোধী স্লোগান লেখা এবং ছোট ছোট বিক্ষোভের ঘটনা বাড়ছে। মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় শহর মোরনে একটি দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাড়ছে অসন্তোষ, কিন্তু সংগঠিত নয়
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারিতে যেখানে বিক্ষোভের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক ডজন, মার্চে তা কয়েকশ’তে পৌঁছেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ দ্রুত বাড়ছে।
তবে এই বিক্ষোভগুলো এখনো বিচ্ছিন্ন ও ছোট আকারের। দেশে শক্তিশালী কোনো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বা নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। অনেক বিরোধী নেতা হয় কারাবন্দী, নয়তো দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে আন্দোলন সংগঠিত করার মতো কাঠামো তৈরি হয়নি।
জনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রভাব
২০২০ সালের পর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় কিউবার জনসংখ্যার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। তরুণদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার সম্ভাবনাও কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
সরকারের অবস্থান ও কঠোরতা
সরকার বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করলেও এর জন্য আন্তর্জাতিক চাপ ও জ্বালানি সংকটকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে ২০২১ সালের বড় বিক্ষোভের পর সরকার আইন কঠোর করেছে। এখন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা ভিন্নমত দমনে বড় ভূমিকা রাখছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় কিছু তরুণ ও সাংবাদিক সরকারের সমালোচনা করলেও তাদের ওপর নজরদারি ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এতে ভয়ের পরিবেশ আরও জোরদার হয়েছে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়তে পারে। তবে তা বৃহৎ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী নেতৃত্ব ও সংগঠিত কাঠামো, যা বর্তমানে কিউবায় অনুপস্থিত।
ফলে জনঅসন্তোষ বাড়লেও তা এখনো সীমিত পর্যায়েই আটকে আছে। কিউবার বাস্তবতা বলছে, ক্ষোভ বাড়ছে, কিন্তু তা বড় পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে না—অন্তত এখনই নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















