ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার চাপে দেশের সাধারণ অর্থনীতি যখন দুর্বল হয়ে পড়ছে, তখন ঠিক উল্টোভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে দেশটির সামরিক অর্থনীতি। বিশেষ করে প্রভাবশালী গার্ড বাহিনী যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আর্থিক অবস্থান আরও মজবুত করেছে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ধস
বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং হামলার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্মসংস্থানের সংকট তীব্র হয়েছে, বহু মানুষ কাজ হারিয়েছে। পরিষেবা খাত, যা আগে বড় অংশের কর্মসংস্থান দিত, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।
পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। বিদেশি পণ্য প্রায় অপ্রাপ্য হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে মানুষের দৈনন্দিন খরচও বাড়িয়েছে। দেশের মুদ্রার মান আরও কমে গেছে, ফলে অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বেড়েছে।

যুদ্ধেই লাভবান সামরিক অর্থনীতি
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গার্ড বাহিনীর অর্থনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাদের আয়ের প্রধান উৎস তিনটি—তেল বিক্রি, দেশীয় শিল্প এবং অবৈধ বাণিজ্য।
তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আয় বেড়েছে। গার্ড বাহিনী দেশের তেল রপ্তানির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে যুদ্ধকালেও তারা বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তারা।
দেশীয় শিল্পে একচেটিয়া প্রভাব
বিদেশি পণ্যের অভাবে দেশীয় শিল্পে গার্ড বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে। তারা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মাণ, খাদ্য, ওষুধসহ নানা খাতে ব্যবসা করছে।
যুদ্ধের কারণে বিদেশি প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বেশি লাভ করছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বাড়ায় তাদের আয় দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবৈধ বাণিজ্যে বাড়তি সুবিধা
গার্ড বাহিনী বন্দর, বিমানবন্দর এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে, যা তাদের অবৈধ বাণিজ্যে বড় সুবিধা দেয়। যুদ্ধের কারণে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় চোরাচালান পণ্যের দাম বেড়েছে, ফলে তাদের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে গার্ড বাহিনী আন্তর্জাতিক মাদক বাণিজ্য থেকেও বেশি লাভ করছে।
যুদ্ধের ক্ষতিও রয়েছে
তবে সবকিছুই লাভজনক নয়। কিছু কারখানা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইস্পাত উৎপাদন কমে গেছে এবং বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছে। তবুও সামগ্রিকভাবে গার্ড বাহিনীর অর্থনৈতিক শক্তি অটুট রয়েছে।

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা
যুদ্ধবিরতি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, কিন্তু সামরিক অর্থনীতির এই শক্তিশালী অবস্থান ভবিষ্যতে ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানের বাস্তবতা এখন এমন—সাধারণ মানুষ যত সংকটে, ক্ষমতাকেন্দ্র ততই শক্তিশালী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















